গল্প--এক টুকরো ভালবাসা
(পর্ব-১)
.
.
একা একা বসে আছি ক্যাম্পাসে। বসে মোবাইল টিপছি। আমার যে বন্ধু বান্ধব নেই তাই কিন্তু নয়। আবার আমি যে খুব ভাব ওয়ালা ছেলে তাও না। আসলে আমি একটু অদ্ভুত টাইপের অন্যরকম ছেলে। যেমন কখনো খুব বাচাল টাইপের, না হয় কখনো সবার সাথে বন্ধু সুলভ, আর না হয় কখনো একে বারে নিশ্চুপ হয়ে একা একা থাকা। বলা যায় একরকম উদাসী ছেলে। আর এবার অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছি।
.
তো বসে বসে মোবাইলে কক খেলছি। কিন্তু খেলাটা আমি একেবারেই পারি না। গত সপ্তাহে জমিরের কাছ থেকে এই গেইমটা এনেছি। জমির হল আমার এক মাত্র ফ্রেন্ড। আসলে একমাত্রও বলা যাবেনা আমার আরো কয়েকজন বন্ধু আছে। তার মধ্যে জমির আর সাগর এই দুজন আমার এক মাত্র ফ্রেন্ড। এখন অনেকে বলতে পারেন ফ্রেন্ড দুজন আবার এক মাত্র হল কিভাবে? আসলে এই দুজনকে আমি মনের এক জায়গায়ি স্থান দিয়েছি। মনের এক বারে গভীরে। আর কয়েকটা মেয়ে বন্ধুও আছে। তবে তারা তাদের রোমিওদের নিয়ে ব্যাস্থ। তবে এদের মধ্যে একটা মেয়ে আছে নাম তামান্না। ওর কোনো ছেলে ফ্রেন্ড নেই শুধু আমি আর জমির, সাগর ছাড়া। তবে মেয়েটা আমাদের দু বছরের জুনিয়র। কেমন করে যেন আমাদের সাথে বন্ধুত্বটা হয়ে যায়। যাক সে কথা যেটা নিয়ে বসেছি দেখি সেটা আগে ভাল ভাবে শিখা যায় কিনা। কিন্তু সত্যি বলতে এখনো এই গেমটা খেলা শিখতে পারলাম না। দেখি সারাদিন বসে জমির গেমটা খেলে। আমি তখন বলতাম।
.
"কিরে সারাদিন তুই এই গেম নিয়ে পড়ে থাকিস কেন? এটার ভেতরে কি আছে?
(তখন জমির বলতো)
"দূর তুই এসব বুঝবি না। তুই হলি একটা জড় পদার্থ।
তখন অনেকটা জিদ করেই ওর কাছ থেকে গেমটা এনেছি। দেখি গেমটা পারি কিনা। কিন্তু গত এক সপ্তাহ যাবৎ চেষ্ট করেও কিছু বুঝে উঠতে পারি নি। ঐ যে কথায় বলে না সবাইকে দিয়ে সব কিছু হয় না।
.
গেম খেলার এক পর্যায়ে মোবাইল থেকে চোখটা সরে ভার্সিটির গেইটের দিকে গেল। দেখলাম তামান্না আসছে। ওর হাবভাব দেখে বুঝা যাচ্ছে আজকে মনে হয় কিছু একটা হবে। আমি আর ওর দিকে না তাকিয়ে মোবাইলে মনোযোগী হলাম। কেননা গুরুজন বলেছেন যেই কাজ কর না কেন মনযোগী হয়ে সেটা করবে। তাহলে তুমি সাকসেস হবে। তামান্না খুব ঝড়ের বেগে এসে আমার পাশে বসলো। কিন্তু আমার সেদিকে খেয়াল নেই। আসলে খেয়াল আছে তবে বুঝাতে চাইছে যে ও যে এসেছে সেদিকে আমার খেয়াল নেই। আড়চোখে ওর দিকে তাকিয়ে দেখলাম চেহারাটা লাল হয়ে আছে। তার মানে মেয়েটা এখন খুব রেগে আছে। কিন্তু কার উপর রেগে আছে? আমি তো কিছু করিনি। হঠাৎ করে রাগী কন্ঠে তামান্না বলে উঠলো।
.
"এই আমি যে অনেক আগে এসে তোমার পাশে বসেছি সেদিকে খেয়াল নেই।
(এটা কিন্তু মিথ্যে কথা ও এসেছে ঠিকমত ২ মিনিটিও হয় নি আর বলছে অনেক আগে এসেছে। আমি মোবাইলে চোখ রাখা অবস্থায় বললাম)
"ওহ তুমি তা কতক্ষণ আগে এসেছো?
"কতক্ষণ আগে মানে?
"না তুমি বললা না যে অনেক আগে এসেছো। তাই জিজ্ঞাসা করলাম কতক্ষণ আগে এসেছো।
"ঐ তুমি আমার সাথে ফাজলামি কর?
"আরে এখানে ফাজলামির কি হল? আমি তো শুধু জিজ্ঞাসা করলাম যে তুমি কতক্ষণ আগে এসেছো।
"যতক্ষণ আগেই আসিনা কেন তোমার জানার দরকার নাই।
"আচ্ছা ঠিক আছে আমার জানার দরকার নাই।
.
কিছু সময় নীরব থাকার পর মেয়েটা আর সহ্য করতে না পেরে আবার বলে উঠলো।
"ঐ তুমি কাল আমার ফোন ধরলা না কেন? সন্ধ্যা থেকে তোমাকে ফোন দিচ্ছিলাম তুমি ফোনটা একবারের জন্যও রিসিব করলানা কেন?
"আরে তেমন কিছু না কালকে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ছিলাম তাই আর তোমার ফোন রিসিব করতে পারি নি।
"তাই বলে সন্ধ্যা সাতটার সময় ঘুমিয়ে পড়ছিলা।
"হ্যা আর তাছাড়া কালকে কিছুই ভাল লাগছিল না তাই ঘুমিয়ে পড়ছিলাম।
"ও তাইতো তোমার আবার ভাল লাগবে কেন?
"আরে এতে রাগের কি হল। ঘুমিয়ে পড়ছিলাম তাই ফোনটা রিসিব করিনি। আর যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখলাম রাত ১২:১৭ তাই আর কল ব্যাক করিনি।
"১২ টার সময় যখন ঘুম ভাঙলো তখন তো কলটা ব্যাক করতে পারতা?
"আমি ভাবলাম আরো তুমি হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছো তাই আর কল ব্যাক করিনি।
"কি আমি মাত্র ১২ টার সময় ঘুমিয়ে পড়েছি...!! এই তোমাকে কে বলল?
"কেউ বলেনি এমনি মনে হল আরকি। আর তাছাড়া তুমি মেয়ে হয়ে এত রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে পারো সেটা আমি বুজিনি। আর তাছাড়া তোমার তো বয়ফ্রেন্ডও নেই যে রাত জেগে তার সাথে কথা বলবা।
"হুম তোমাকে বলেছে।
"কি তার মানে তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে..!!! কিন্তু আমাদেরকে এখনো বলনি?
"ঐ তোমাকে কে বলল যে আমার বয়ফ্রেন্ড আছে।
"তাহলে হুম বললা যে।
"দূর তুমি কিছুই বুঝো না। আসলে তুমি একটা গাধা।
"হয়তোবা গাধা। আচ্ছা বাদ দাও এখানে আর কতক্ষণ বসে থাকবে ক্লাস নেই।
"হ্যা আছে। কিন্তু তুমি এখানে বসে কি করছো তোমার ক্লাস নেই।
"হ্যা আছে কিন্তু আজ আর ক্লাস করবো না।
"তাহলে আমিও আজ ক্লাস করবো না।
"কেন? তুমি ক্লাস করবে না কেন?
"এমনি ভাল লাগছে না তাই ক্লাস করবো না
.
আমি তামান্নারর কথা শুনে বসা থেকে উঠলাম। এই মেয়েটা কেন যে এত বেশি আমার উপর ঝুকে আছে বুঝতে পারছিনা।
.
"এই পাবেল কোথায় যাচ্ছো?
"না ক্লাসে যাবো।
"এই না বললা ক্লাস করবা না আবার এখন বলছো ক্লাস করবা বুঝলাম না?
"আগে বলছি আগেরটা শেষ। এখন ক্লাস করতে ইচ্ছে করছে তাই ক্লাসে যাবো যাও তুমিও ক্লাসে যাও।
"আচ্ছা তুমি সব সময় আমার সাথে এরকম কর কেন? একটু সময় তোমার সাথে বসে গল্প করা যায় না। তুমি নানান অজুহাত দেখিয়ে চলে যাও। কেন?
"আরে কি বল আমি আবার কখন তোমার সাথে বসে গল্প করিনি? এইতো এই ৫ মিনিট যে তোমার সাথে বসে গল্প করলাম।
"এটা কোনো সময় হল? অন্যদের সাথে তো দেখি ঠিকি ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আড্ডা দাও।
"আরে বাদ দাও তো যাও তুমি ক্লাসে যাও।
.
কথাটা বলার পর দেখলাম তামান্না রাগ করে উঠে চলে যাচ্ছে। আমিও আর কিছু বললাম না। কেননা এই মেয়েটা এমনিতেই আমাকে মায়ার জ্বালে বন্ধী করার চেষ্টা করছে। জানি না পারবে কিনা। তবে আমাকে তো আর ওর মায়ার জ্বালে বন্ধী হলে চলবে না। আর তাছাড়া আমার মত একটা উদ্দেশহীন ছেলের কাছ থেকে ও কি বা পাবে। ওর দিকে চেয়ে ওর কথা ভাবতে ভাবতে ভার্সিটির গেইটের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম। না আজ আর এখানে থাকা যাবে না। যাই বাসায় গিয়ে একটা ফ্রেশ মনে ঘুম দেই। আমি বুঝি না এই মেয়ে আমার থেকে দুবছর জুনিয়র ব্যাচ হয়েও কিভাবে যে আমাদের সাথে এসে বন্ধুত্ব করলো? আর আমিও বা কিভাবে ওর বন্ধুত্বে সারা দিলাম বুঝে উঠতে পারছিনা।
.
একদিন ক্যাম্পাসে বসে আছি আমি,জমির আর সাগর। বসে একটু টুকটাক কথা বলছি। হঠাৎ একটা মেয়ে কোথা থেকে এসে আমাদের সামনে হাজির হল। মেয়েটাকে দেখে পরিচিত মনে হচ্ছে না। আমি জমির আর সাগর একে অপরের দিকে তাকাচ্ছি। আমাদের দৃষ্টি শুধু একটা প্রশ্নই করছে আর সেটা হল। হয়তোবা মেয়েটা আমার বা জমিরের আর না হয় সাগরের পরিচিত। কিন্তু আমরা কেউ তো মেয়েটাকে চিনতে পারছিনা। তখন মেয়েটা নিজেই বলে উঠলো।
.
"কি ব্যাপার আপনারা একজন অন্যজনের দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? আরে আপনারা কেউ আমাকে চিনবেন না আমি এই ভার্সিটিতে নতুন।
(তখন জমির বলে উঠলো)
"তা নতুন যখন এখানে কি? নাকি নিজের ক্লাস খুঁজে পাচ্ছো না?
"না তা না আসলে আমি আপনাদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে চেয়েছিলাম।
(কথাটা শুনে তো আমরা অবাক। এই মেয়ে বলে কি ভার্সিটিতে নতুন এসেছে আর এসেই সিনিয়রদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে চায়। তখন সাগর একটু গম্ভীর গলায় বলল।)
"আরে কি বল এটা? তুমি জানো আমরা কোন ইয়ারে পড়ি আর তাছাড়া নতুন এসেই সিনিয়রদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে চাও?
"আরে আপনারা রাগেন কেন? দেখেন তো এবার যারা নতুন এসেছে তারা সবাই কেমন যেন পিচ্চি পিচ্চি ওদের সাথে কিভাবে ফ্রেন্ডশিপ করবো বলুন। আমাকে দেখে কি মনে হয় আমি ওদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করলে মানাবে।
"মানাবে কি না তা জানি না তবে তোমাকে মানিয়ে নিতে হবে।
(তখন আমি সাগরকে থামিয়ে দিয়ে বললাম)
"তা তোমার নাম কি?
(মেয়েটা তার মুখে স্পিত হাসি এনে বলল)
"জ্বি আমি তামান্না। আপনারা?
.
(তখন জমির আর সাগর আমার দিকে কেমন করে যেন তাকালো। মনে হচ্ছে ওরা আমার উপর খুব বিরক্ত যে আমি জুনিয়র একটা মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব করছি। তবুও ওদেরকে ইশারায় কিছু বলতে মানা করলাম আর ওর সাথে ফ্রেন্ডশিপ করার কথা বললাম)
.
"আমি জমির।
"আমি সাগর।
(তখন মেয়েটা আমার দিকে হাত বাড়ালো। আমি তখন হাত না মিলিয়ে বললাম)
"আমি আমিই।
(মেয়েটা একটু অবাক হয়েই বলল)
"আমি মানে কি। আপনার তো একটা নাম আছে সেই নামটা কি জানতে পারি না?
"হ্যা জানতে পারবা না কেন অবশ্যই জানতে পারবা। ফ্রেন্ড যখন হয়েছো তাহলে চলতে চলতে জেনে যাবা।
"তাহলে এখন বললে সমস্যা কোথায়?
"বললাম তো চলতে চলতে জেনে যাবা।
"আচ্ছা ঠিক আছে এটা কোনো ব্যাপার না। আর হ্যা আমরা সবাই যখন এখন ফ্রেন্ড তখন আমি কিন্তু সবাইকে তুমি করেই বলবো।
"আচ্ছা ঠিক আছে বল।
"তাহলে এখন আমি যাই ক্লাস আছে আমার। আর হ্যা তোমাদের ক্লাস কখন শেষ হবে?
"এইতো ১:৩০ এ।
"ও আমার আবার সাড়ে ১২ টায় ক্লাস শেষ হয়ে যাবে। আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোমাদের জন্য ক্লাস শেষে অপেক্ষা করবো। তোমাদের যখন ক্লাস শেষ হবে তখন সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দিব।
.
(ওরে বাব্বাহ মেয়েটাকে দেখি যতই পাত্তা দিচ্ছি ততই কথা বলার পরিমাণ বাড়িয়ে চলেছে। আর এদিকে মেয়েটার কথা শুনে জমির আর সাগর আমার দিকে একটু রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি আর ওদের দিকে তাকালাম না মেয়েটাকে বললাম)
.
"আচ্ছা ঠিক আছে এখন তুমি ক্লাসে যাও ক্লাস শেষে দেখা যাবে।
"দেখা যাবে মানে কি? আমাদের ফ্রেন্ডশিপ সবে মাত্র শুরু হল আর প্রথম দিনি সবাই যার যার মত চলে যাব তা কি হয়?
"আচ্ছা ঠিক আছে ক্লাস শেষে সবাই মিলে আড্ডা দিব।
"মনে থাকে যেন।
"হ্যা মনে থাকবে।
"ওকে ২ ঘন্টার জন্য বাই।
"২ ঘন্টার জন্য বাই মানে?
"দূর তুমি একটা গাধা আরে ২ ঘন্টার জন্য বাই মানে তো ২ ঘন্টা পর আবার দেখা হবে তাই এই ২ ঘন্টার জন্য বাই।
"ওহ আচ্ছা ঠিক আছে এখন যাও ক্লাসে যাও।
.
মেয়েটা আর কিছু বলল না চলে গেল। আর ঐ দিকে জমির আর সাগর আমার উপর তো এখন বেজায় চটেছে। পারলে এখন আমাকে ওরা মারবে। তাই আমি ওদের দিকে চোখ তুলে আর তাকাচ্ছি না বারবার চোখ নামিয়ে ফেলছি। না এভাবে তো ভয় পেলে চলবে না। তাই এবার চোখ তুলে বললাম।
.
"কি ব্যাপার কি হয়েছে তোরা এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? আরে মেয়েটার সাথে আর কিভাবেই বা কথা বলতে পারতাম বল। আর মেয়েটাও তো দেখতে ছোট না দেখলে তো আমাদের মতই মনে হয়। আর এসব ছোট বড় কোনো ব্যাপার নাকি হ্যা? বন্ধু তো বন্ধুই এর মধ্যে আবার ছোট আর বড় কি?
.
তখন জমির বলে উঠলো
.
"তাই বলে জুনিয়র ব্যাচের একটা মেয়ের সাথে কেন? ভার্সিটির অন্যান্যরা দেখলে কি বলবে?
"দূর তোরা এতসব চিন্তা করছ কেন আমরা যার সাথে ইচ্ছা তার সাথে চলবো এতে কার কি?
"তাই বলে।
"দূর বাদ দে তো চল ক্লাসে চল।
.
ক্লাস শেষে বের হলাম। বের হয়ে জমির আর সাগরকে বললাম যে।
.
"চল।
তখন সাগর বলে উঠলো।
"কোথায়?
"কোথায় আবার ক্লাসে আসার আগে আমাদের নতুন বন্ধুকে কথা দিয়ে আসলাম না যে ক্লাস শেষে ওর সাথে কিছুক্ষণ বসে গল্প করবো।
"না ভাই আমি যাবো না তুমিই যাও গিয়ে তোমার ঐ নতুন পিচ্চি বন্ধুর সাথে গিয়ে তুমি গল্প কর আমার গল্প করার ইচ্ছা নাই।
"দেখ সাগর মেয়েটাকে কিন্তু আসার আগে আমরা কথা দিয়েছিলাম যে ক্লাস শেষে ওর সাথে বসে কিছুক্ষণ গল্প করবো।
.
আমার কথা শুনে জমির বলে উঠলো।
.
"না ভাই আমরা কথা দেই নাই বরং তুমিই মেয়েটাকে কথা দিছো যে ক্লাস শেষে গিয়ে মেয়েটার সাথে জমিয়ে আড্ডা দিবা সো তুমিই যাও।
"তার মানে তোরা যাবি না?
"না ভাই তুমিই যাও তোমার নতুন বন্ধু বলে কথা।
"সত্যিই তোরা যাবি না তো?
"এক কথা কতবার বলবো।
"দেখ মেয়েটা কিন্তু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এই শেষ বারের মত বলছি যাবি তো চল।
"না যাবো না।
"তাহলে তোরা থাক আমি গেলাম।
.
এই কথা বলে পিছন ফিরে হাটা ধরলাম। কয়েক পা এগুনোর পর জমির ডাক দিল।
.
"এই পাবেল দাড়া।
"কি হইছে আবার পিছন পিছন ডাকছিস কেন?
"ঐ কোথায় যাচ্ছিস আমাদের রেখে আমাদের নিবি না?
"তোরাই তো যেতে চাচ্ছিস না তাহলে আমিই যাই যেহেতু আমি কথা দিয়েছি।
"ঐ তোকে কোথাও একলা যেতে দিয়েছি নাকি। যেখানেই যাই তিনজনি তো এক সাথে যাই তাহলে এখন যাবো না কেন?
"তাহলে চল দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
"আচ্ছা চল কিন্তু যাস্ট ১০ মিনিট থাকবো এর চাইতে বেশি না।
"হুম আচ্ছা ঠিক আছে চল।
.
আসলে ওরা এরকমি প্রথমে অনেক বড় বড় কথা বলবে পড়ে ঠিকি মেনে নিবে। আর কখনো একা কোনো কিছু আমরা করিনি।
.
কিছুক্ষণ হাটা পর দেখলাম মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে। আমাদেরকে দেখেই ঠোঁটের কোনে স্ফিত হাসি দিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। কাছে এসেই বলে উঠলো।
.
"যাক বাবা তোমরা তাহলে এসেছো তাহলে আমিতো আরো ভাবছিলাম আসবে না।
তখন আমি বললাম।
"শুনো যেহেতু কথা দিয়েছি সেহেতু আসবো কেননা কথার বরখেলাপ করার মত বন্ধু আমরা না।
"আরে রাগ কর কেন আমি তো এমনিই বললাম। আচ্ছা ঠিক আছে চল ঐ পাশটায় গিয়ে বসি।
"আচ্ছা ঠিক আছে চল।
.
কথাটা বলে জমির আর সাগরের দিকে তাকালাম। দেখি ওরা তেমন কিছুই বলছেনা। আসলে না বলার কারণ হল ওদের মোবাইল। ওরা যে মোবাইলে কি পেয়েছে সারাদিন এই মোবাইল নিয়েই পড়ে থাকে। কি যে আছে এই মোবাইলে এক মাত্র তারাই জানে। তামান্নার সাথে হাটতে হাটতে ভার্সিটির একটা কোনায় এসে বসলাম। জায়গাটা আমার ও অনেক পছন্দের। যখন একা থাকতে ইচ্ছে করে তখন এখানে এসে বসে থাকি। জায়গাটার চারদিকে অনেকটা গাছ আর নিচে পুরো মাঠ সবুজ ঘাসে ঢেকে আছে। এই জায়গাটায় বসলেই যেকোনো কারো খারাপ মনটা নিমিষেই ভাল হয়ে যাবে। জায়গাটার একটা পাশে এসে তামান্না থামলো আর বলল।
.
"এই জায়গাটায় বসা যায় তোমরা কি বল।
(আমি মাথা দিয়ে হ্যা সূচক উত্তর দিলাম। তারপর চারজন গোল হয়ে বসলাম। বসার পর তামান্না বলে উঠলো)
"তা তোমাদের আর বন্ধু কই? নাকি তোমরা এই তিনজনি সব সময় এক সাথে থাকো?
"আর বন্ধু নেই তা না আছে তবে আমরা তিনজনি সব সময় একসাথে থাকি।
"ওহ ভাল তাহলে আজ থেকে আমিও যোগ হলাম মোট চারজন।
(কথাটা শুনে জমির আর সাগর মোবাইল থেকে চোখটা তুলে তামান্নার দিকে তাকিয়ে আমার দিকে তাকালো। আমি তখন ওদের দিকে তাকিয়ে বললাম।)
"হ্যা তা তো আবশ্যই।
"হুম তাই। আর জানো চারজন মিলে সব কিছু করা যায়।
"যেমন।
"যেমন ধর যেকোনো ধরনের খেলা চারজন মিলে খেলা যায়। কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। আর সব থেকে ভাল আড্ডা দেওয়া যায়।
"হয়তোবা।
"এই তুমি এমন কেন বলত? আগেও তোমাকে নাম জিজ্ঞাসা করলাম তুমি নাম বললা না আবার এখন কিরকম কথা বলছো।
কথাটা শুনেই সাগর বলে উঠলো।
"হ্যা এই তোমার নামটা কি যেন। ও হ্যা তামান্না তুমি ঠিকি বলেছো আসলে ও একটা জড় পদার্থ তবে এক দিক থেকে ভাল কারো সাথে কখনো মিথ্যে কথা বলে না।
সাগরের কথা শুনেই তামান্না অনেকটা রেগে বলল।
"এই তোমরা দুজন কি পেয়েছো সেই কখন থেকে দেখছি মোবাইলেই পড়ে আছো তোমাদের আর কোনো কাজ নেই? দেখি মোবাইলটা আমার কাছে দাও তো?
.
এই কথা বলেই তামান্না ওদের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে গেল। আর ওরা অবাক চোখে তামান্নার দিকে তাকিয়ে আছে। আসলে তামান্নার এই কান্ডে আমি নিজেও অবাক হয়েছি। এত সহজে যে কি করে আমাদের কে আপন ভেবে নিল আমি বুজে উঠতে পারছি। তবে একটু বেশি কথা বলে। তামান্না মোবাইল হাতে নিয়ে একটু দেখে আবার ওদের কাছে দিয়ে বলল।
.
"এই নাও ধর এটার ভিতর যে কি আছে সেটা একমাত্র তোমরাই জানো। আচ্ছা তোমাদের কি কারোরি প্রেমিকা নেই?
.
কথাটা শুনে আমরা একে অপরের দিকে তাকাচ্ছি। আসলে এই মেয়েটাকে যতই দেখছি ততই অবাক হচ্ছি।
"কি হল কথা বলছো না কেন তোমাদের কি একজনের ও প্রেমিকা নেই?
এবার আমরা তিনজনি মাথা দিয়ে না বললাম।
"আসলে আমিও আইডিয়ে করেছিলাম যে তোমাদের কোনো প্রেমিকা ট্রেমিকা থাকবে না। কেননা তোমরা তিনজন যে আজব ক্যারেক্টার এর ছেলে। শুনো ছেলেদের দুটা জিএফ একটা হল মোবাইল আরেকটা হল রিয়েল। এই দুটা থেকে যেকোনো একটাকে ভালভাবে ধরতে হয় যদি মোবাইলের প্রতি আসক্ত থাকো তাহলে তোমার আসল ভালবাসার মানুষটাকে হারাতে পারো। কেননা তুমি এইটাকে সময় দিতে গিয়ে আসলটাকে অবহেলা করবে। আর অবহেলার কেউই সহ্য করতে পারে না।
.
ওর কথা শুনে আমরা তিনজনি একটু দীর্ঘশ্বাস নিয়ে হু বললাম। মনে হল যেন বড় কেউ আমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছে আর আমরা সেটা খুব মন দিয়েই শ্রবন করছি। তখন তামান্না আমার দিকে তাকিয়ে বলল।
.
"আচ্ছা আজকে আমাকে কেমন লাগছে?
"হ্যা ভাল লাগছে।
"শুধুই কি ভাল লাগছে?
"না অসাধারণ লাগছে অসাধারণ।
"জানো তোমাকে কেন জিজ্ঞাসা করলাম?
"না।
"ঐ যে ওরা বললা না যে তুমি কখনো মিথ্যে কথা বল না তাই তোমাকে জিজ্ঞাসা করলাম। আসলে আমরা চার বোন আমি তিন নাম্বার বড় দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। আর আমার থেকে ছোট যেটা আছে ও ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। তবে ও আর আমার মধ্যে সব সময় একটা কম্পিটিশন হয় কে বেশি পরিপাটি হয়ে বের হতে পারে। আর এই নিয়ে প্রতিদিনি আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
"ও আচ্ছা।
"এই ও আচ্ছা কি ও আচ্ছা কি সেই কখন থেকে শুধু আমিই কথা বলে যাচ্ছি তোমরা শুধু উত্তরটাই দিচ্ছো তোমাদের কি কোনো কথা নেই? আমরা এখন নতুন বন্ধু প্রথম দিন একটু জমিয়ে আড্ডা দেব। তা না সবাই চুপ করে আছো আর আমি একাই কথা বলে যাচ্ছি।
"আরে না না কি বল। এটাই তো অনেক তুমি একাই কথা বলছো এটাই তো হজম করতে পারছি না আমরা আর কি বলবো।
"কি বলবে মানে কত কিছু বলার আছে ভেতরের কথা বাহিরের কথা। আরে বন্ধুর সাথেই তো প্রাণ খুলে কথা বলবা আর মন উজাড় করে হাসবা। তা না হলে কিসের জন্য বন্ধু হলাম।
"আচ্ছা বাবা ঠিক আছে এখন বলবো।
.
তারপর ওর সাথে আরো অনেক কথা বললাম। ধীরে ধীরে দেখলাম জমির আর সাগর ওর সাথে খুব ভাল ভাবে আড্ডায় মেতেছে। আসলে তামান্না খুব মিশুক টাইপের মেয়ে সবার সাথে সরল মনে কথা বলে আর যা বলে সরাসরি বলে কোনো কারচুপি করে না। আর ও দেখতে খুন আহামরি সুন্দরী না হলেও চেহারায় অনেক মায়া। যেকোনো কারো মনটা কেড়ে নেওয়ার মত। টিয়া কালারের একটা বোরকা সাথে মেচিং করে স্কার্ফ করা দেখতে খুব ভালই লাগছে। ঠিক যেমনটা ভালবাসার মানুষটাকে আশা করা যায়। চোখ বন্ধ করে বলা যায় ভালবাসি তোমায়।
.
যখন ও চলে যাবে তখন আমাকে বলে উঠলো। "এই তুমি তোমার নামটা কি যেন?
"আমিই।
"আবার আমি? আরে আমি কি? তোমার নাম নেই নাকি? না আকীকা দিয়ে নামটাই মুছে দিয়েছো?
"আরে কি বল নাম থাকবে না কেন নামটা একটা আছে।
"তাহলে বল।
"পাবেল।
"হুম। আচ্ছা চল।
ওর শেষের কথাটা শুনে আমি একটু অবাক হলাম তাই অবাক চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম।
"কোথায়?
"আরে এমন ভাবে বলছো যেন তোমাকে নিয়ে আমি জাহান্নামে যাবো।
"আরে না কিন্তু কোথায় সেটা তো বলবে।
"কোথাও না বাসায় যাবো আমাকে একটা রিকশা ঠিক করে দাও আসো।
"কেন একা যেতে পারবে না।
"আরে তোমাকে তো আর আমার সাথে যেতে বলিনি শুধু বলেছি একটা রিকশা ঠিক করে দিবা।
(কথাটা শুনার পর আমি কিছু বলছি না চুপ করে জমিরদের দিকে তাকিয়ে আছি। দেখলাম ওরা ও মাথা দিয়ে যেতে বলল)
"আচ্ছা ঠিক আছে চল।
.
তারপর তামান্নাকে একটা রিকশা ঠিক করে দিলাম। আর এভাবেই শুরু হল আমাদের বন্ধুত্ব আর এরপর থেকে এক সাথে উঠাবসা। তবে এই মেয়েটা ওদের চাইতে আমার সাথে একটু বেশিই মিশে। আর কোনো কোনো দিন রাতে ফোন করে অনেক সময় ধরে কথা বলে। কথা বলার ফাঁকে যখন আমি চুপ করে যাই তখন বলে উঠে "এই তুমি চুপ করে আছো কেন" আমি তখন ওর কথা শুনে বলি "কেন চুপ করে থাকবো না তো কি করবো?" আর এদিকে আমি কিছু বলতেও পারিনা। আর সব সময় আমার উপর এক প্রকার শাসন প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু কেন যে এমন করছে সেটা আমি বুঝতে পারিনা।
.
কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেয়ে ঘুর কাটলো। তাকিয়ে দেখি একটা আকাশী গাছ যেটার সাথে আমি ধাক্কা খেয়েছি। আর ধাক্কাটাও একটু জুড়ে লেগেছে যার কারণে ডান হাতের কনুতে খুব ব্যাথা পেয়েছি। আসলে তামান্নার দিকে তাকিয়ে ওর কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে এই গাছটার সাথে এসে ধাক্কা খেয়েছি নিজেই বলতে পারিনা। কনুইতে হাত দিয়ে একবার তামান্না যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল ঐদিকে একবার তাকালাম। দেখি তামান্না নেই মনে হয় ক্লাসে চলে গেছে। আমিও আর দাঁড়ালাম না বাসার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম। ভার্সিটি থেকে বের হয়ে ভাবলাম রিকশা করে বাসায় যাবো। কিন্তু রিকশাও পাচ্ছি না তাই হেটেই বাসার পথ ধরলাম। আর তাছাড়া অনেকদিন হল হাটি না তাই শরীরটা কেমন যেন বসে গেছে। আমার বাসায় যেতে এখান থেকে প্রায় ৪০ মিনিটের মত লাগবে। তবে কোনো সমস্যা নেই চারদিকের এই ব্যাস্ত নগরীর ব্যাস্ত মানুষদেরকে দেখে দেখে না হয় পৌছে যাবো আমার গন্তব্যে। তাই ফুতফাত ধরে হাটা শুরু করলাম। আসলে এই বিচিত্র পৃথিবীর বিচিত্র মানুষগুলা খুব বিচিত্র ভাবেই তারা তাদের জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
.
বাসায় এসে কলিংবেল চাপতেই আম্মু এসে দরজা খুলে দিল। আর দরজা খুলেই আম্মু আমাকে দেখে একটু অবাক হলেন।
.
"কিরে তুই এই সময় বাসায়? তুই না ভার্সিটিতে গেলি? তাহলে চলে আসলি যে? ক্লাস নেই নাকি?
"আরে আম্মু ক্লাস আছে কিন্তু আজ ক্লাস করতে ভাল লাগছে না তাই চলে আসছি।
"কেন শরীর খারাপ নাকি?
"আরে আম্মু তুমি যে কি বল না। আচ্ছা বাদ দাও তো বাসায় তো আমাকে ডুকতে দিবা।
"হ্যা আয়।
.
তারপর বাসায় ডুকে আম্মু কে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে গেলাম। গিয়ে দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।
.
আজকে কিছুদিন ধরে তামান্না আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। আচ্ছা ঐ মেয়েটা আমার উপর এত মায়ার প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে কেন? নাকি ও আমাকে? আরে না না আমি এসব কি ভাবছি এটা কিভাবে হবে। আর তাছাড়া আমি যেরকম ঘাটছাড়া একটা ছেলে ও আমার সাথে কিভাবে কি। না এসব ভাবতে আর ভাল লাগছে না। আচ্ছা ওকে নিয়ে এত ভাবছি কেন? এখানে কি কোনো মায়ার প্রভাবে পড়েছে? না এসব নিয়ে আর আমাকে ভাবলে হবে না। তাই এসব চিন্তা না করে ভাবলাম একটা ঘুম দেওয়া যাক। শান্তিমত একটা ঘুম দিলে হয়তো মাথাটা ফ্রেশ হবে।
তাই আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করলাম আর ঘুমটাকে নিজের চোখের পাতায় আনার চেষ্টা করলাম।
(চলবে)
.
লিখা--Ariyan Mahbub Riyad(হিমুর ছোট ভাই)
(পর্ব-১)
.
.
একা একা বসে আছি ক্যাম্পাসে। বসে মোবাইল টিপছি। আমার যে বন্ধু বান্ধব নেই তাই কিন্তু নয়। আবার আমি যে খুব ভাব ওয়ালা ছেলে তাও না। আসলে আমি একটু অদ্ভুত টাইপের অন্যরকম ছেলে। যেমন কখনো খুব বাচাল টাইপের, না হয় কখনো সবার সাথে বন্ধু সুলভ, আর না হয় কখনো একে বারে নিশ্চুপ হয়ে একা একা থাকা। বলা যায় একরকম উদাসী ছেলে। আর এবার অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছি।
.
তো বসে বসে মোবাইলে কক খেলছি। কিন্তু খেলাটা আমি একেবারেই পারি না। গত সপ্তাহে জমিরের কাছ থেকে এই গেইমটা এনেছি। জমির হল আমার এক মাত্র ফ্রেন্ড। আসলে একমাত্রও বলা যাবেনা আমার আরো কয়েকজন বন্ধু আছে। তার মধ্যে জমির আর সাগর এই দুজন আমার এক মাত্র ফ্রেন্ড। এখন অনেকে বলতে পারেন ফ্রেন্ড দুজন আবার এক মাত্র হল কিভাবে? আসলে এই দুজনকে আমি মনের এক জায়গায়ি স্থান দিয়েছি। মনের এক বারে গভীরে। আর কয়েকটা মেয়ে বন্ধুও আছে। তবে তারা তাদের রোমিওদের নিয়ে ব্যাস্থ। তবে এদের মধ্যে একটা মেয়ে আছে নাম তামান্না। ওর কোনো ছেলে ফ্রেন্ড নেই শুধু আমি আর জমির, সাগর ছাড়া। তবে মেয়েটা আমাদের দু বছরের জুনিয়র। কেমন করে যেন আমাদের সাথে বন্ধুত্বটা হয়ে যায়। যাক সে কথা যেটা নিয়ে বসেছি দেখি সেটা আগে ভাল ভাবে শিখা যায় কিনা। কিন্তু সত্যি বলতে এখনো এই গেমটা খেলা শিখতে পারলাম না। দেখি সারাদিন বসে জমির গেমটা খেলে। আমি তখন বলতাম।
.
"কিরে সারাদিন তুই এই গেম নিয়ে পড়ে থাকিস কেন? এটার ভেতরে কি আছে?
(তখন জমির বলতো)
"দূর তুই এসব বুঝবি না। তুই হলি একটা জড় পদার্থ।
তখন অনেকটা জিদ করেই ওর কাছ থেকে গেমটা এনেছি। দেখি গেমটা পারি কিনা। কিন্তু গত এক সপ্তাহ যাবৎ চেষ্ট করেও কিছু বুঝে উঠতে পারি নি। ঐ যে কথায় বলে না সবাইকে দিয়ে সব কিছু হয় না।
.
গেম খেলার এক পর্যায়ে মোবাইল থেকে চোখটা সরে ভার্সিটির গেইটের দিকে গেল। দেখলাম তামান্না আসছে। ওর হাবভাব দেখে বুঝা যাচ্ছে আজকে মনে হয় কিছু একটা হবে। আমি আর ওর দিকে না তাকিয়ে মোবাইলে মনোযোগী হলাম। কেননা গুরুজন বলেছেন যেই কাজ কর না কেন মনযোগী হয়ে সেটা করবে। তাহলে তুমি সাকসেস হবে। তামান্না খুব ঝড়ের বেগে এসে আমার পাশে বসলো। কিন্তু আমার সেদিকে খেয়াল নেই। আসলে খেয়াল আছে তবে বুঝাতে চাইছে যে ও যে এসেছে সেদিকে আমার খেয়াল নেই। আড়চোখে ওর দিকে তাকিয়ে দেখলাম চেহারাটা লাল হয়ে আছে। তার মানে মেয়েটা এখন খুব রেগে আছে। কিন্তু কার উপর রেগে আছে? আমি তো কিছু করিনি। হঠাৎ করে রাগী কন্ঠে তামান্না বলে উঠলো।
.
"এই আমি যে অনেক আগে এসে তোমার পাশে বসেছি সেদিকে খেয়াল নেই।
(এটা কিন্তু মিথ্যে কথা ও এসেছে ঠিকমত ২ মিনিটিও হয় নি আর বলছে অনেক আগে এসেছে। আমি মোবাইলে চোখ রাখা অবস্থায় বললাম)
"ওহ তুমি তা কতক্ষণ আগে এসেছো?
"কতক্ষণ আগে মানে?
"না তুমি বললা না যে অনেক আগে এসেছো। তাই জিজ্ঞাসা করলাম কতক্ষণ আগে এসেছো।
"ঐ তুমি আমার সাথে ফাজলামি কর?
"আরে এখানে ফাজলামির কি হল? আমি তো শুধু জিজ্ঞাসা করলাম যে তুমি কতক্ষণ আগে এসেছো।
"যতক্ষণ আগেই আসিনা কেন তোমার জানার দরকার নাই।
"আচ্ছা ঠিক আছে আমার জানার দরকার নাই।
.
কিছু সময় নীরব থাকার পর মেয়েটা আর সহ্য করতে না পেরে আবার বলে উঠলো।
"ঐ তুমি কাল আমার ফোন ধরলা না কেন? সন্ধ্যা থেকে তোমাকে ফোন দিচ্ছিলাম তুমি ফোনটা একবারের জন্যও রিসিব করলানা কেন?
"আরে তেমন কিছু না কালকে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ছিলাম তাই আর তোমার ফোন রিসিব করতে পারি নি।
"তাই বলে সন্ধ্যা সাতটার সময় ঘুমিয়ে পড়ছিলা।
"হ্যা আর তাছাড়া কালকে কিছুই ভাল লাগছিল না তাই ঘুমিয়ে পড়ছিলাম।
"ও তাইতো তোমার আবার ভাল লাগবে কেন?
"আরে এতে রাগের কি হল। ঘুমিয়ে পড়ছিলাম তাই ফোনটা রিসিব করিনি। আর যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখলাম রাত ১২:১৭ তাই আর কল ব্যাক করিনি।
"১২ টার সময় যখন ঘুম ভাঙলো তখন তো কলটা ব্যাক করতে পারতা?
"আমি ভাবলাম আরো তুমি হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছো তাই আর কল ব্যাক করিনি।
"কি আমি মাত্র ১২ টার সময় ঘুমিয়ে পড়েছি...!! এই তোমাকে কে বলল?
"কেউ বলেনি এমনি মনে হল আরকি। আর তাছাড়া তুমি মেয়ে হয়ে এত রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে পারো সেটা আমি বুজিনি। আর তাছাড়া তোমার তো বয়ফ্রেন্ডও নেই যে রাত জেগে তার সাথে কথা বলবা।
"হুম তোমাকে বলেছে।
"কি তার মানে তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে..!!! কিন্তু আমাদেরকে এখনো বলনি?
"ঐ তোমাকে কে বলল যে আমার বয়ফ্রেন্ড আছে।
"তাহলে হুম বললা যে।
"দূর তুমি কিছুই বুঝো না। আসলে তুমি একটা গাধা।
"হয়তোবা গাধা। আচ্ছা বাদ দাও এখানে আর কতক্ষণ বসে থাকবে ক্লাস নেই।
"হ্যা আছে। কিন্তু তুমি এখানে বসে কি করছো তোমার ক্লাস নেই।
"হ্যা আছে কিন্তু আজ আর ক্লাস করবো না।
"তাহলে আমিও আজ ক্লাস করবো না।
"কেন? তুমি ক্লাস করবে না কেন?
"এমনি ভাল লাগছে না তাই ক্লাস করবো না
.
আমি তামান্নারর কথা শুনে বসা থেকে উঠলাম। এই মেয়েটা কেন যে এত বেশি আমার উপর ঝুকে আছে বুঝতে পারছিনা।
.
"এই পাবেল কোথায় যাচ্ছো?
"না ক্লাসে যাবো।
"এই না বললা ক্লাস করবা না আবার এখন বলছো ক্লাস করবা বুঝলাম না?
"আগে বলছি আগেরটা শেষ। এখন ক্লাস করতে ইচ্ছে করছে তাই ক্লাসে যাবো যাও তুমিও ক্লাসে যাও।
"আচ্ছা তুমি সব সময় আমার সাথে এরকম কর কেন? একটু সময় তোমার সাথে বসে গল্প করা যায় না। তুমি নানান অজুহাত দেখিয়ে চলে যাও। কেন?
"আরে কি বল আমি আবার কখন তোমার সাথে বসে গল্প করিনি? এইতো এই ৫ মিনিট যে তোমার সাথে বসে গল্প করলাম।
"এটা কোনো সময় হল? অন্যদের সাথে তো দেখি ঠিকি ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আড্ডা দাও।
"আরে বাদ দাও তো যাও তুমি ক্লাসে যাও।
.
কথাটা বলার পর দেখলাম তামান্না রাগ করে উঠে চলে যাচ্ছে। আমিও আর কিছু বললাম না। কেননা এই মেয়েটা এমনিতেই আমাকে মায়ার জ্বালে বন্ধী করার চেষ্টা করছে। জানি না পারবে কিনা। তবে আমাকে তো আর ওর মায়ার জ্বালে বন্ধী হলে চলবে না। আর তাছাড়া আমার মত একটা উদ্দেশহীন ছেলের কাছ থেকে ও কি বা পাবে। ওর দিকে চেয়ে ওর কথা ভাবতে ভাবতে ভার্সিটির গেইটের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম। না আজ আর এখানে থাকা যাবে না। যাই বাসায় গিয়ে একটা ফ্রেশ মনে ঘুম দেই। আমি বুঝি না এই মেয়ে আমার থেকে দুবছর জুনিয়র ব্যাচ হয়েও কিভাবে যে আমাদের সাথে এসে বন্ধুত্ব করলো? আর আমিও বা কিভাবে ওর বন্ধুত্বে সারা দিলাম বুঝে উঠতে পারছিনা।
.
একদিন ক্যাম্পাসে বসে আছি আমি,জমির আর সাগর। বসে একটু টুকটাক কথা বলছি। হঠাৎ একটা মেয়ে কোথা থেকে এসে আমাদের সামনে হাজির হল। মেয়েটাকে দেখে পরিচিত মনে হচ্ছে না। আমি জমির আর সাগর একে অপরের দিকে তাকাচ্ছি। আমাদের দৃষ্টি শুধু একটা প্রশ্নই করছে আর সেটা হল। হয়তোবা মেয়েটা আমার বা জমিরের আর না হয় সাগরের পরিচিত। কিন্তু আমরা কেউ তো মেয়েটাকে চিনতে পারছিনা। তখন মেয়েটা নিজেই বলে উঠলো।
.
"কি ব্যাপার আপনারা একজন অন্যজনের দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? আরে আপনারা কেউ আমাকে চিনবেন না আমি এই ভার্সিটিতে নতুন।
(তখন জমির বলে উঠলো)
"তা নতুন যখন এখানে কি? নাকি নিজের ক্লাস খুঁজে পাচ্ছো না?
"না তা না আসলে আমি আপনাদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে চেয়েছিলাম।
(কথাটা শুনে তো আমরা অবাক। এই মেয়ে বলে কি ভার্সিটিতে নতুন এসেছে আর এসেই সিনিয়রদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে চায়। তখন সাগর একটু গম্ভীর গলায় বলল।)
"আরে কি বল এটা? তুমি জানো আমরা কোন ইয়ারে পড়ি আর তাছাড়া নতুন এসেই সিনিয়রদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে চাও?
"আরে আপনারা রাগেন কেন? দেখেন তো এবার যারা নতুন এসেছে তারা সবাই কেমন যেন পিচ্চি পিচ্চি ওদের সাথে কিভাবে ফ্রেন্ডশিপ করবো বলুন। আমাকে দেখে কি মনে হয় আমি ওদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করলে মানাবে।
"মানাবে কি না তা জানি না তবে তোমাকে মানিয়ে নিতে হবে।
(তখন আমি সাগরকে থামিয়ে দিয়ে বললাম)
"তা তোমার নাম কি?
(মেয়েটা তার মুখে স্পিত হাসি এনে বলল)
"জ্বি আমি তামান্না। আপনারা?
.
(তখন জমির আর সাগর আমার দিকে কেমন করে যেন তাকালো। মনে হচ্ছে ওরা আমার উপর খুব বিরক্ত যে আমি জুনিয়র একটা মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব করছি। তবুও ওদেরকে ইশারায় কিছু বলতে মানা করলাম আর ওর সাথে ফ্রেন্ডশিপ করার কথা বললাম)
.
"আমি জমির।
"আমি সাগর।
(তখন মেয়েটা আমার দিকে হাত বাড়ালো। আমি তখন হাত না মিলিয়ে বললাম)
"আমি আমিই।
(মেয়েটা একটু অবাক হয়েই বলল)
"আমি মানে কি। আপনার তো একটা নাম আছে সেই নামটা কি জানতে পারি না?
"হ্যা জানতে পারবা না কেন অবশ্যই জানতে পারবা। ফ্রেন্ড যখন হয়েছো তাহলে চলতে চলতে জেনে যাবা।
"তাহলে এখন বললে সমস্যা কোথায়?
"বললাম তো চলতে চলতে জেনে যাবা।
"আচ্ছা ঠিক আছে এটা কোনো ব্যাপার না। আর হ্যা আমরা সবাই যখন এখন ফ্রেন্ড তখন আমি কিন্তু সবাইকে তুমি করেই বলবো।
"আচ্ছা ঠিক আছে বল।
"তাহলে এখন আমি যাই ক্লাস আছে আমার। আর হ্যা তোমাদের ক্লাস কখন শেষ হবে?
"এইতো ১:৩০ এ।
"ও আমার আবার সাড়ে ১২ টায় ক্লাস শেষ হয়ে যাবে। আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোমাদের জন্য ক্লাস শেষে অপেক্ষা করবো। তোমাদের যখন ক্লাস শেষ হবে তখন সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দিব।
.
(ওরে বাব্বাহ মেয়েটাকে দেখি যতই পাত্তা দিচ্ছি ততই কথা বলার পরিমাণ বাড়িয়ে চলেছে। আর এদিকে মেয়েটার কথা শুনে জমির আর সাগর আমার দিকে একটু রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি আর ওদের দিকে তাকালাম না মেয়েটাকে বললাম)
.
"আচ্ছা ঠিক আছে এখন তুমি ক্লাসে যাও ক্লাস শেষে দেখা যাবে।
"দেখা যাবে মানে কি? আমাদের ফ্রেন্ডশিপ সবে মাত্র শুরু হল আর প্রথম দিনি সবাই যার যার মত চলে যাব তা কি হয়?
"আচ্ছা ঠিক আছে ক্লাস শেষে সবাই মিলে আড্ডা দিব।
"মনে থাকে যেন।
"হ্যা মনে থাকবে।
"ওকে ২ ঘন্টার জন্য বাই।
"২ ঘন্টার জন্য বাই মানে?
"দূর তুমি একটা গাধা আরে ২ ঘন্টার জন্য বাই মানে তো ২ ঘন্টা পর আবার দেখা হবে তাই এই ২ ঘন্টার জন্য বাই।
"ওহ আচ্ছা ঠিক আছে এখন যাও ক্লাসে যাও।
.
মেয়েটা আর কিছু বলল না চলে গেল। আর ঐ দিকে জমির আর সাগর আমার উপর তো এখন বেজায় চটেছে। পারলে এখন আমাকে ওরা মারবে। তাই আমি ওদের দিকে চোখ তুলে আর তাকাচ্ছি না বারবার চোখ নামিয়ে ফেলছি। না এভাবে তো ভয় পেলে চলবে না। তাই এবার চোখ তুলে বললাম।
.
"কি ব্যাপার কি হয়েছে তোরা এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? আরে মেয়েটার সাথে আর কিভাবেই বা কথা বলতে পারতাম বল। আর মেয়েটাও তো দেখতে ছোট না দেখলে তো আমাদের মতই মনে হয়। আর এসব ছোট বড় কোনো ব্যাপার নাকি হ্যা? বন্ধু তো বন্ধুই এর মধ্যে আবার ছোট আর বড় কি?
.
তখন জমির বলে উঠলো
.
"তাই বলে জুনিয়র ব্যাচের একটা মেয়ের সাথে কেন? ভার্সিটির অন্যান্যরা দেখলে কি বলবে?
"দূর তোরা এতসব চিন্তা করছ কেন আমরা যার সাথে ইচ্ছা তার সাথে চলবো এতে কার কি?
"তাই বলে।
"দূর বাদ দে তো চল ক্লাসে চল।
.
ক্লাস শেষে বের হলাম। বের হয়ে জমির আর সাগরকে বললাম যে।
.
"চল।
তখন সাগর বলে উঠলো।
"কোথায়?
"কোথায় আবার ক্লাসে আসার আগে আমাদের নতুন বন্ধুকে কথা দিয়ে আসলাম না যে ক্লাস শেষে ওর সাথে কিছুক্ষণ বসে গল্প করবো।
"না ভাই আমি যাবো না তুমিই যাও গিয়ে তোমার ঐ নতুন পিচ্চি বন্ধুর সাথে গিয়ে তুমি গল্প কর আমার গল্প করার ইচ্ছা নাই।
"দেখ সাগর মেয়েটাকে কিন্তু আসার আগে আমরা কথা দিয়েছিলাম যে ক্লাস শেষে ওর সাথে বসে কিছুক্ষণ গল্প করবো।
.
আমার কথা শুনে জমির বলে উঠলো।
.
"না ভাই আমরা কথা দেই নাই বরং তুমিই মেয়েটাকে কথা দিছো যে ক্লাস শেষে গিয়ে মেয়েটার সাথে জমিয়ে আড্ডা দিবা সো তুমিই যাও।
"তার মানে তোরা যাবি না?
"না ভাই তুমিই যাও তোমার নতুন বন্ধু বলে কথা।
"সত্যিই তোরা যাবি না তো?
"এক কথা কতবার বলবো।
"দেখ মেয়েটা কিন্তু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এই শেষ বারের মত বলছি যাবি তো চল।
"না যাবো না।
"তাহলে তোরা থাক আমি গেলাম।
.
এই কথা বলে পিছন ফিরে হাটা ধরলাম। কয়েক পা এগুনোর পর জমির ডাক দিল।
.
"এই পাবেল দাড়া।
"কি হইছে আবার পিছন পিছন ডাকছিস কেন?
"ঐ কোথায় যাচ্ছিস আমাদের রেখে আমাদের নিবি না?
"তোরাই তো যেতে চাচ্ছিস না তাহলে আমিই যাই যেহেতু আমি কথা দিয়েছি।
"ঐ তোকে কোথাও একলা যেতে দিয়েছি নাকি। যেখানেই যাই তিনজনি তো এক সাথে যাই তাহলে এখন যাবো না কেন?
"তাহলে চল দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
"আচ্ছা চল কিন্তু যাস্ট ১০ মিনিট থাকবো এর চাইতে বেশি না।
"হুম আচ্ছা ঠিক আছে চল।
.
আসলে ওরা এরকমি প্রথমে অনেক বড় বড় কথা বলবে পড়ে ঠিকি মেনে নিবে। আর কখনো একা কোনো কিছু আমরা করিনি।
.
কিছুক্ষণ হাটা পর দেখলাম মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে। আমাদেরকে দেখেই ঠোঁটের কোনে স্ফিত হাসি দিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। কাছে এসেই বলে উঠলো।
.
"যাক বাবা তোমরা তাহলে এসেছো তাহলে আমিতো আরো ভাবছিলাম আসবে না।
তখন আমি বললাম।
"শুনো যেহেতু কথা দিয়েছি সেহেতু আসবো কেননা কথার বরখেলাপ করার মত বন্ধু আমরা না।
"আরে রাগ কর কেন আমি তো এমনিই বললাম। আচ্ছা ঠিক আছে চল ঐ পাশটায় গিয়ে বসি।
"আচ্ছা ঠিক আছে চল।
.
কথাটা বলে জমির আর সাগরের দিকে তাকালাম। দেখি ওরা তেমন কিছুই বলছেনা। আসলে না বলার কারণ হল ওদের মোবাইল। ওরা যে মোবাইলে কি পেয়েছে সারাদিন এই মোবাইল নিয়েই পড়ে থাকে। কি যে আছে এই মোবাইলে এক মাত্র তারাই জানে। তামান্নার সাথে হাটতে হাটতে ভার্সিটির একটা কোনায় এসে বসলাম। জায়গাটা আমার ও অনেক পছন্দের। যখন একা থাকতে ইচ্ছে করে তখন এখানে এসে বসে থাকি। জায়গাটার চারদিকে অনেকটা গাছ আর নিচে পুরো মাঠ সবুজ ঘাসে ঢেকে আছে। এই জায়গাটায় বসলেই যেকোনো কারো খারাপ মনটা নিমিষেই ভাল হয়ে যাবে। জায়গাটার একটা পাশে এসে তামান্না থামলো আর বলল।
.
"এই জায়গাটায় বসা যায় তোমরা কি বল।
(আমি মাথা দিয়ে হ্যা সূচক উত্তর দিলাম। তারপর চারজন গোল হয়ে বসলাম। বসার পর তামান্না বলে উঠলো)
"তা তোমাদের আর বন্ধু কই? নাকি তোমরা এই তিনজনি সব সময় এক সাথে থাকো?
"আর বন্ধু নেই তা না আছে তবে আমরা তিনজনি সব সময় একসাথে থাকি।
"ওহ ভাল তাহলে আজ থেকে আমিও যোগ হলাম মোট চারজন।
(কথাটা শুনে জমির আর সাগর মোবাইল থেকে চোখটা তুলে তামান্নার দিকে তাকিয়ে আমার দিকে তাকালো। আমি তখন ওদের দিকে তাকিয়ে বললাম।)
"হ্যা তা তো আবশ্যই।
"হুম তাই। আর জানো চারজন মিলে সব কিছু করা যায়।
"যেমন।
"যেমন ধর যেকোনো ধরনের খেলা চারজন মিলে খেলা যায়। কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। আর সব থেকে ভাল আড্ডা দেওয়া যায়।
"হয়তোবা।
"এই তুমি এমন কেন বলত? আগেও তোমাকে নাম জিজ্ঞাসা করলাম তুমি নাম বললা না আবার এখন কিরকম কথা বলছো।
কথাটা শুনেই সাগর বলে উঠলো।
"হ্যা এই তোমার নামটা কি যেন। ও হ্যা তামান্না তুমি ঠিকি বলেছো আসলে ও একটা জড় পদার্থ তবে এক দিক থেকে ভাল কারো সাথে কখনো মিথ্যে কথা বলে না।
সাগরের কথা শুনেই তামান্না অনেকটা রেগে বলল।
"এই তোমরা দুজন কি পেয়েছো সেই কখন থেকে দেখছি মোবাইলেই পড়ে আছো তোমাদের আর কোনো কাজ নেই? দেখি মোবাইলটা আমার কাছে দাও তো?
.
এই কথা বলেই তামান্না ওদের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে গেল। আর ওরা অবাক চোখে তামান্নার দিকে তাকিয়ে আছে। আসলে তামান্নার এই কান্ডে আমি নিজেও অবাক হয়েছি। এত সহজে যে কি করে আমাদের কে আপন ভেবে নিল আমি বুজে উঠতে পারছি। তবে একটু বেশি কথা বলে। তামান্না মোবাইল হাতে নিয়ে একটু দেখে আবার ওদের কাছে দিয়ে বলল।
.
"এই নাও ধর এটার ভিতর যে কি আছে সেটা একমাত্র তোমরাই জানো। আচ্ছা তোমাদের কি কারোরি প্রেমিকা নেই?
.
কথাটা শুনে আমরা একে অপরের দিকে তাকাচ্ছি। আসলে এই মেয়েটাকে যতই দেখছি ততই অবাক হচ্ছি।
"কি হল কথা বলছো না কেন তোমাদের কি একজনের ও প্রেমিকা নেই?
এবার আমরা তিনজনি মাথা দিয়ে না বললাম।
"আসলে আমিও আইডিয়ে করেছিলাম যে তোমাদের কোনো প্রেমিকা ট্রেমিকা থাকবে না। কেননা তোমরা তিনজন যে আজব ক্যারেক্টার এর ছেলে। শুনো ছেলেদের দুটা জিএফ একটা হল মোবাইল আরেকটা হল রিয়েল। এই দুটা থেকে যেকোনো একটাকে ভালভাবে ধরতে হয় যদি মোবাইলের প্রতি আসক্ত থাকো তাহলে তোমার আসল ভালবাসার মানুষটাকে হারাতে পারো। কেননা তুমি এইটাকে সময় দিতে গিয়ে আসলটাকে অবহেলা করবে। আর অবহেলার কেউই সহ্য করতে পারে না।
.
ওর কথা শুনে আমরা তিনজনি একটু দীর্ঘশ্বাস নিয়ে হু বললাম। মনে হল যেন বড় কেউ আমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছে আর আমরা সেটা খুব মন দিয়েই শ্রবন করছি। তখন তামান্না আমার দিকে তাকিয়ে বলল।
.
"আচ্ছা আজকে আমাকে কেমন লাগছে?
"হ্যা ভাল লাগছে।
"শুধুই কি ভাল লাগছে?
"না অসাধারণ লাগছে অসাধারণ।
"জানো তোমাকে কেন জিজ্ঞাসা করলাম?
"না।
"ঐ যে ওরা বললা না যে তুমি কখনো মিথ্যে কথা বল না তাই তোমাকে জিজ্ঞাসা করলাম। আসলে আমরা চার বোন আমি তিন নাম্বার বড় দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। আর আমার থেকে ছোট যেটা আছে ও ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। তবে ও আর আমার মধ্যে সব সময় একটা কম্পিটিশন হয় কে বেশি পরিপাটি হয়ে বের হতে পারে। আর এই নিয়ে প্রতিদিনি আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
"ও আচ্ছা।
"এই ও আচ্ছা কি ও আচ্ছা কি সেই কখন থেকে শুধু আমিই কথা বলে যাচ্ছি তোমরা শুধু উত্তরটাই দিচ্ছো তোমাদের কি কোনো কথা নেই? আমরা এখন নতুন বন্ধু প্রথম দিন একটু জমিয়ে আড্ডা দেব। তা না সবাই চুপ করে আছো আর আমি একাই কথা বলে যাচ্ছি।
"আরে না না কি বল। এটাই তো অনেক তুমি একাই কথা বলছো এটাই তো হজম করতে পারছি না আমরা আর কি বলবো।
"কি বলবে মানে কত কিছু বলার আছে ভেতরের কথা বাহিরের কথা। আরে বন্ধুর সাথেই তো প্রাণ খুলে কথা বলবা আর মন উজাড় করে হাসবা। তা না হলে কিসের জন্য বন্ধু হলাম।
"আচ্ছা বাবা ঠিক আছে এখন বলবো।
.
তারপর ওর সাথে আরো অনেক কথা বললাম। ধীরে ধীরে দেখলাম জমির আর সাগর ওর সাথে খুব ভাল ভাবে আড্ডায় মেতেছে। আসলে তামান্না খুব মিশুক টাইপের মেয়ে সবার সাথে সরল মনে কথা বলে আর যা বলে সরাসরি বলে কোনো কারচুপি করে না। আর ও দেখতে খুন আহামরি সুন্দরী না হলেও চেহারায় অনেক মায়া। যেকোনো কারো মনটা কেড়ে নেওয়ার মত। টিয়া কালারের একটা বোরকা সাথে মেচিং করে স্কার্ফ করা দেখতে খুব ভালই লাগছে। ঠিক যেমনটা ভালবাসার মানুষটাকে আশা করা যায়। চোখ বন্ধ করে বলা যায় ভালবাসি তোমায়।
.
যখন ও চলে যাবে তখন আমাকে বলে উঠলো। "এই তুমি তোমার নামটা কি যেন?
"আমিই।
"আবার আমি? আরে আমি কি? তোমার নাম নেই নাকি? না আকীকা দিয়ে নামটাই মুছে দিয়েছো?
"আরে কি বল নাম থাকবে না কেন নামটা একটা আছে।
"তাহলে বল।
"পাবেল।
"হুম। আচ্ছা চল।
ওর শেষের কথাটা শুনে আমি একটু অবাক হলাম তাই অবাক চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম।
"কোথায়?
"আরে এমন ভাবে বলছো যেন তোমাকে নিয়ে আমি জাহান্নামে যাবো।
"আরে না কিন্তু কোথায় সেটা তো বলবে।
"কোথাও না বাসায় যাবো আমাকে একটা রিকশা ঠিক করে দাও আসো।
"কেন একা যেতে পারবে না।
"আরে তোমাকে তো আর আমার সাথে যেতে বলিনি শুধু বলেছি একটা রিকশা ঠিক করে দিবা।
(কথাটা শুনার পর আমি কিছু বলছি না চুপ করে জমিরদের দিকে তাকিয়ে আছি। দেখলাম ওরা ও মাথা দিয়ে যেতে বলল)
"আচ্ছা ঠিক আছে চল।
.
তারপর তামান্নাকে একটা রিকশা ঠিক করে দিলাম। আর এভাবেই শুরু হল আমাদের বন্ধুত্ব আর এরপর থেকে এক সাথে উঠাবসা। তবে এই মেয়েটা ওদের চাইতে আমার সাথে একটু বেশিই মিশে। আর কোনো কোনো দিন রাতে ফোন করে অনেক সময় ধরে কথা বলে। কথা বলার ফাঁকে যখন আমি চুপ করে যাই তখন বলে উঠে "এই তুমি চুপ করে আছো কেন" আমি তখন ওর কথা শুনে বলি "কেন চুপ করে থাকবো না তো কি করবো?" আর এদিকে আমি কিছু বলতেও পারিনা। আর সব সময় আমার উপর এক প্রকার শাসন প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু কেন যে এমন করছে সেটা আমি বুঝতে পারিনা।
.
কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেয়ে ঘুর কাটলো। তাকিয়ে দেখি একটা আকাশী গাছ যেটার সাথে আমি ধাক্কা খেয়েছি। আর ধাক্কাটাও একটু জুড়ে লেগেছে যার কারণে ডান হাতের কনুতে খুব ব্যাথা পেয়েছি। আসলে তামান্নার দিকে তাকিয়ে ওর কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে এই গাছটার সাথে এসে ধাক্কা খেয়েছি নিজেই বলতে পারিনা। কনুইতে হাত দিয়ে একবার তামান্না যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল ঐদিকে একবার তাকালাম। দেখি তামান্না নেই মনে হয় ক্লাসে চলে গেছে। আমিও আর দাঁড়ালাম না বাসার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম। ভার্সিটি থেকে বের হয়ে ভাবলাম রিকশা করে বাসায় যাবো। কিন্তু রিকশাও পাচ্ছি না তাই হেটেই বাসার পথ ধরলাম। আর তাছাড়া অনেকদিন হল হাটি না তাই শরীরটা কেমন যেন বসে গেছে। আমার বাসায় যেতে এখান থেকে প্রায় ৪০ মিনিটের মত লাগবে। তবে কোনো সমস্যা নেই চারদিকের এই ব্যাস্ত নগরীর ব্যাস্ত মানুষদেরকে দেখে দেখে না হয় পৌছে যাবো আমার গন্তব্যে। তাই ফুতফাত ধরে হাটা শুরু করলাম। আসলে এই বিচিত্র পৃথিবীর বিচিত্র মানুষগুলা খুব বিচিত্র ভাবেই তারা তাদের জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
.
বাসায় এসে কলিংবেল চাপতেই আম্মু এসে দরজা খুলে দিল। আর দরজা খুলেই আম্মু আমাকে দেখে একটু অবাক হলেন।
.
"কিরে তুই এই সময় বাসায়? তুই না ভার্সিটিতে গেলি? তাহলে চলে আসলি যে? ক্লাস নেই নাকি?
"আরে আম্মু ক্লাস আছে কিন্তু আজ ক্লাস করতে ভাল লাগছে না তাই চলে আসছি।
"কেন শরীর খারাপ নাকি?
"আরে আম্মু তুমি যে কি বল না। আচ্ছা বাদ দাও তো বাসায় তো আমাকে ডুকতে দিবা।
"হ্যা আয়।
.
তারপর বাসায় ডুকে আম্মু কে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে গেলাম। গিয়ে দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।
.
আজকে কিছুদিন ধরে তামান্না আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। আচ্ছা ঐ মেয়েটা আমার উপর এত মায়ার প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে কেন? নাকি ও আমাকে? আরে না না আমি এসব কি ভাবছি এটা কিভাবে হবে। আর তাছাড়া আমি যেরকম ঘাটছাড়া একটা ছেলে ও আমার সাথে কিভাবে কি। না এসব ভাবতে আর ভাল লাগছে না। আচ্ছা ওকে নিয়ে এত ভাবছি কেন? এখানে কি কোনো মায়ার প্রভাবে পড়েছে? না এসব নিয়ে আর আমাকে ভাবলে হবে না। তাই এসব চিন্তা না করে ভাবলাম একটা ঘুম দেওয়া যাক। শান্তিমত একটা ঘুম দিলে হয়তো মাথাটা ফ্রেশ হবে।
তাই আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করলাম আর ঘুমটাকে নিজের চোখের পাতায় আনার চেষ্টা করলাম।
(চলবে)
.
লিখা--Ariyan Mahbub Riyad(হিমুর ছোট ভাই)
No comments:
Post a Comment