Thursday, June 9, 2016

গল্প--এক টুকরো ভালবাসা (শেষ পর্ব)

গল্প--এক টুকরো ভালবাসা (শেষ পর্ব)
.
ঠাৎ জুড়ে কারো ধাক্কা ঘুম থেকে এক
প্রকার লাফ দিয়ে উঠলাম। ভাবলাম হয়তো
ভূমিকম্প শুরু হয়েছে আর তাছাড়া ইদানীং
যে হারে ভূমিকম্প শুরু হইছে বলা তো যায়
না কখন কি হয়। যার জন্য আমাকে এভাবে
আর্জেন্ট ভাবে ঘুম থেকে ডেকে তুলা
হচ্ছে। কিন্তু না ঘুম থেকে উঠে দেখি সব
কিছু ঠিকি আছে পাশে তাকিয়ে দেখি
নীলা (আমার ছোট বোন) দাঁড়িয়ে আছে।
ওর দিকে তাকাতেই ও বলে উঠলো।
.
" কিরে ভাইয়া মরার মত এত ঘুম তর কোথা
থেকে আসলো?
"ও তুই আমি আরো ভাবছিলাম হয়তো
কেয়ামত শুরু হয়ে গেছে।
"হ্যা আমি আচ্ছা তুই এই সময় আজ ঘুমাচ্ছিস
ব্যাপারটা কি বলতো।
"দূর ব্যাপার আবার কি? ঘুম তো ঘুমি এটার
আবার সময় অসময় লাগে নাকি।
"হ্যা লাগে।
"আচ্ছা বাদ দে তো তা তুই আমাকে এভাবে
ঘুম থেকে ডেকে তুললি কেন? কিছু হয়েছে
নাকি?
"হ্যা অনেক কিছু হয়েছে।
"তা কি হয়েছে।
.
কথাটা বলার পর দেখলাম নীলা আমার
মোবাইলটা আমার চোখের সামনে তুলে
ধরছে। আমি তখন বললাম।
.
"হ্যা এটা আমার মোবাইল তো কি হয়েছে?
"এখন কয়টা বাজে তোর খেয়াল আছে?
"কয়টা বাজে?
"বিকাল ৪ টা।
(নীলা ৪ টা বাজে এমন ভাবে বলল যেন ৩
টার সময় আমার অনেক বড় কিছু একটা কাজ
ছিল কিন্তু সেটা আমি এই ঘুমের কারণে
মিস করে ফেলেছি)
"তো ৪ টা বাজলো তো কি হইছি। ৪ টা তো
বাজতেই পারে। আর তাছাড়া সময় তো আর
কারো জন্য অপেক্ষা করে না।
"আরে দেখ তুই একবার মোবাইলটা হাতে
নিয়ে দেখ তামান্না আপু তকে কতবার
ফোন করেছে।
"ও তামান্না ফোন করেছিল।
.
(কথাটা বলে মোবাইলটা হাতে নিলাম।
এবং দেখি তামান্নার ১৭ টা মিসকল। আমি
কিছু বলার আগে নীলা বলে উঠলো)
.
"শেষ পর্যন্ত তকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতে
না পেরে আমিই ফোনটা রিসিব করি।
(আমি নীলার কথাটা শুনে তেমন একটা
অবাক হলাম না। কেননা শুধু নীলাই না
আম্মু ও তামান্নাকে খুব ভালভাবে চিনেন।
কেননা একদিন জমির সাগর আর
তামান্নাকে নিয়ে আমাদের বাসায়
এসেছিলাম। আর সেদিন থেকে তামান্নার
সাথে আম্মু আর নীলার খুব ভাব। আম্মু
মাঝে মাঝে নীলার মোবাইল থেকে ফোন
করে তামান্নার সাথে কথা বলেন। যেদিন
তামান্না আমাদের বাসায় এসেছিল
সেদিন তামান্না যাবার পর আম্মু আমাকে
এসে বললেন।
"মেয়েটা কিন্তু খুব লক্ষী ঠিক যেমনটা
আমি চেয়েছিলাম" (আমি তো আম্মুর কথা
আগামাথা কিছুই বুজলাম না তাই আম্মুকে
জিজ্ঞাসা করলাম)
"আম্মু এসব কি বলছো মেয়েটা লক্ষী আর
ঠিক যেমনটা চেয়েছো এসবের মানে কি?
আম্মু তখন বলল
"তর এসব বুঝতে হবে না আমি আমার
ছেলেটার জন্য এরকম একটা মেয়েকেই বউ
করে আনবো।
"ও এই কথা।
"আচ্ছা ওর বাসা কে কে আছে।
তারপর আম্মুকে তামান্নার সব ডিটেল
দিলাম আর এরপর যখন আম্মু চলে গেল তখন
বুঝতে পারলাম যে আমিই তো আম্মুজানের
এক মাত্র ছেলে আমার তো আর বড় কোনো
ভাই নেই তার মানে আম্মু এতক্ষণ? আর
আমিও কি বোকা ওহ শীট।
.
নীলার ধাক্কায় ঘুর কাটলো
"কিরে ভাইয়া কি ভাবছিস। নাকি জেগে
জেগেই তামান্না আপু কে নেই স্বপ্ন
দেখছিস। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখতে
দেখতে এখন জেগে থেকে তামান্না আপু
কে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিস?
"এই তুই না বেশি কথা বলছ যা এখান থেকে।
"যাচ্ছি বাবা এত চিল্লাচিল্লি করতে হবে
না। সত্যি কথা বললেও দোষ। আর হ্যা আপু
বলছে উনাকে একটা ফোন করতে।
"হ্যা করবো যা তুই যা এখান থেকে।
"ওকে যাচ্ছি ধমক দিয়ে কথা না বললে
হয়না।
.
কথাটা বলেই নীলা চলে গেল। আর আমি
এদিকে মোবাইলে হাতে নিয়ে বসে চিন্তা
করছি তামান্নাকে ফোন দিব কিনা। না
একটা ফোন দেওয়া উচিত মেয়েটার ভেতর
আমার প্রতি এমনিতেই অনেক অভিমান
জমে আছে। দেখি হয়তোবা সেই অভিমান
কিছুটা হলেও কমবে। তাই তামান্নাকে
ফোন দিলাম। আমি অবাক হলাম যে
প্রথমবার রিং হতেই তামান্না ফোনটা
রিসিব করলো। ওকি তাহলে আমার ফোনের
অপেক্ষায় ছিল? আসলে মেয়েটাও কিরকম
করে যেন তার মায়ার বাধনে আমাকে
বেধে ফেলছে। আর আমিও কেন যেন এই
বাধন থেকে নিজেকে দূরে রাখতে
পারছিনা। তামান্নার কথায় ঘুর কাটলো।
.
"কি হল ফোন দিয়ে কথা বলছো না কেন?
"ও হ্যা।
"কি?
"কিছুনা না মানে তুমি ফোন দিছিলা তাই
ফোন দিলাম।
"আমি যদি ফোন না দিতাম তাহলে তুমি
ফোন দিতানা?
"না দিতাম। ফোন দেব না কেন বন্ধু যখন
তখন তো খুজ খবর রাখতে হবে।
"হুম দেখি তো কিরকম খবর রাখো।
"আচ্ছা বাদ তা কি জন্য এতবার কল
দিছিলা?
"কেন তোমাকে কি কল করতে হলে কারণ
বের করে কল দিতে হবে?
"আরে না আমি কি তাই বলছি নাকি।
"আচ্ছা তুমি আজকে ভার্সিটি থেকে চলে
গেলা কেন? ক্লাস শেষে তোমাকে অনেক
খুঁজেছি কিন্তু তোমাকে পেলাম না পরে
তোমাকে ফোন দিলাম কিন্তু ফোনটা
রিসিব করলে না। পরে নীলা ফোন রিসিব
করে বলল তুমি নাকি মরার ঘুমাচ্ছো।
"কি নীলা এই কথা বলছে আমি মরার মত
ঘুমাচ্ছি।
"মরার মতই তো ঘুমাচ্ছিলে তা না হলে
এতবার ফোন দেওয়ার পরও ফোন ধরলে না
কেন?
"আরে ঘুমাচ্ছিলাম তো।
"হ্যা সেটাই। আচ্ছা তোমার কি আজ
বিকেলে একটু সময় হবে?
"বিকেল তো হয়েই গেছে।
"হ্যা দেখতে পাচ্ছি। তোমার কি একটু সময়
হবে।
"কেন?
"কেন কোনো কাজ আছে নাকি?
"আরে বাবা আমি বলছি নাকি যে কোনো
কাজ আছে আচ্ছা ঠিক আছে আজকের
বিকেল আমি তোমার নামে লিখে দিলাম।
"ধন্যবাদ। তাহলে তুমি আগামী ৩০
মিনিটের মধ্যে আমার বাসা থেকে
আমাকে এসে নিয়ে যেও আমি রেডি হয়ে
অপেক্ষা করবো।
"আচ্ছা ঠিক আছে আসবো। কিন্তু কোথায়
যাবো সেটা তো এখনো বললে না।
"আমি যেখানে নিয়ে যাবো সেখানে
যাবা। না কি যাবেনা?
"হ্যা যাবো।
"তাহলে মনে করে চলে এসো কিন্তু আমি
রেডি হয়ে থাকবো।
"ঠিক আছে আমি আসছি।
.
আসলে মেয়েটা এরকম কেন আমি বুঝিনা।
সব কথা নিজের মনের মধ্যে রেখে কাউকে
কিছু বলেও না আর বুঝতেও দে না। যাই
আগে ফ্রেশ রেডি হয়ে কিছু একটা খেয়ে
বের হই সারাদিন তো ঘুমের মধ্যেই খরচ
করলাম খাওয়া দাওয়া তো আর কিছুই করা
হয়নি। তাই এখন যা করার একটু তাড়াতাড়ি
করতে হবে কেননা অভিমানী মেয়েটা যে
রেডি হয়ে বসে থাকবে আমার জন্য।
.
বাসার নিচে দাঁড়িয়ে রিকশার জন্য
অপেক্ষা করছি। কিন্তু একটা রিকশারও
চেহারা দেখতে পাচ্ছিনা। ভাবলাম
হেটেই রওনা দিব নাকি। কিন্তু হেটে
গেলে তামান্নাদের বাসায় পৌছাতে
দেরি হয়ে যাবে। আর এমনিতেই ১৫ মিনিট
চলে গেছে। যাক অবশেষে একটা রিকশা
পেলাম তবে ভাড়াটা একটু বেশি। তবে
সমস্যা নেই রিকশাওয়ালা মামাদেরকে
ভাড়া একটু বেশি দিলে উনারা আরো মনে
থেকে খুশি হন কেননা রিকশা চালানো
অনেক কঠিন আর পরিশ্রমের কাজ। একদিন
আমি একটা রিকশাওয়ালা মামাকে বলে
জমিরকে রিকশায় তুলে ১০ টা প্যাডেল
দিতে পারিনি। তার আগেই আমার জানের
পানি শুকিয়ে গিয়েছিল। সেদিন
বুঝেছিলাম রিকশায় বসে হাওয়া খাওয়া
যতটুকু আরামের তার থেকে শতগুণ বেশি কষ্ট
হয় রিকশা চালাতে।
.
প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে তামান্নাদের
বাসার সামনে পৌছে গেলাম। দেখলাম
নিচে কেউ দাঁড়িয়ে নেই তার মানে
তামান্না এখনো রুমে বসে আছে। রিকশা
থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে তামান্নাকে
ফোন দিলাম। ফোনের রিং বাজতে না
বাজতেই ফোনটা রিসিব করে নিল। আর
অবাক হলাম যে ও আমাকে কিছু বলার
সুযোগ না দিয়ে বলে উঠলো।
.
"তুমি একটু দাঁড়াও আমি আসছি।
.
আচ্ছা ও বুঝলো কিভাবে যে আমি চলে
এসছি? আর ওদের বাসার নিচে দাঁড়িয়ে
আছি। হয়তোবা এটাই ভালবাসার টান যা
দিয়ে ভালবাসার মানুষটার প্রতিটা
পদক্ষেপ চোখ বুঝে ফেলা যায়। প্রায় ৩
মিনিট পর দেখলাম তামান্না ওদের বাসার
গেইট থেকে বের হচ্ছে। ওকে আজ দেখতে
খুব ভাল লাগছে। নীল কালারের একটা লং
ড্রেস পড়ে এসেছে সাথে হালকা সেজেছে।
তবে আজকে স্কার্ফ করেনি চুল খুলেই
এসেছে। তবে চুল গুলাকে খুব সুন্দর করে
আঁচড়িয়েছে। কিছু চুল ডানদিকে এনে
ফেলেছে। আর বাকি চুলগুলা পিছনে
রেখেছে। এই হালকা সাজে এই অভিমানী
মেয়েটাকে অসাধারণ লাগছে। ইচ্ছে করছে
আলতো করে চুল গুলাকে একটু ছুঁয়ে দেখতে
আসলে আমি এর আগে তামান্নাকে খুলা
চুলে কখনো দেখিনি আজকেই প্রথমবার।
.
তামান্নার ডাকে ভাবনা থেকে বাস্তবে
ফিরলাম।
"এই যে মিস্টার এভাবে তাকিয়ে আছেন
কেন নজড় লাগবে যে?
(আমি তামান্নার কথা শুনে একটু লজ্জা
পেলাম তাই মাথা নিচের দিকে করে
রাখলাম)
"হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবেনা। রিকশা
কোথায়?
"রিকশা কে তো ছেড়ে দিয়েছি।
"আসলে তুমিও না। যাও গিয়ে একটা রিকশা
ঠিক করে আনো।
"আচ্ছা ঠিক আছে যাচ্ছি কিন্তু কোথায়
যাবো?
"জাহান্নামে।
"আমিতো রাস্তা চিনিনা।
"আমি চিনি যাও বলছি রিকশা ঠিক করে
আনো।
"আচ্ছা ঠিক আছে যাচ্ছি।
"এই দাঁড়াও এদিকে আসো।
.
(তামান্নার ডাকে আমি পিছন ফিরে ওর
একটু কাছে গেলাম। তারপর দেখলাম
তামান্না এগিয়ে এসে আমার শার্টের
কলার ঠিক করে দিচ্ছে আর বলছে। "এত বড়
ছেলে হয়েছো আর ঠিকমত শার্ট ও পড়তে
পারোনা"। আমি তখন কি বলবো বুজতে
পারছি। এই প্রথম আমি তামান্নাকে এত
কাছ থেকে দেখছি। সত্যি খুব ভাল
লাগছিল। যখন তামান্না আমার শার্টের
কলারটা ঠিক করে দিচ্ছিল মনে হচ্ছিল যেন
খুব আপন কেউ যত্ন করে আমাকে গুছিয়ে
পরিপাটি করছে। ইচ্ছে করছিল তামান্না
চুলগুলা আলতো করে একবার ছুঁয়ে দেখতে।
আচ্ছা এত সুন্দর কেন ওর চুল? আমি
ইচ্ছেটাকে আর ধরে রাখতে পারিনি বাম
হাত দিয়ে ওর ডানদিকের চুল গুলাকে
কানের পিছনে গুঁজে দিলাম আর বললাম।
"তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে আর তার
চাইতে বেশি সুন্দর লাগছে তোমার চুল
গুলা"। আমার কথাটা শুনে তামান্না কেমন
যেন একটু লজ্জা পেল। তাই আমি আর কিছু
না বলে রিকশা আনতে চলে গেলাম।
.
রিকশায় উঠে আমি ডান পাশে আর
তামান্না বাম পাশে বসে আছে। ও শুধু
রিকশাওয়ালা কে বলল নতুন ব্রিজটাতে
যেন নিয়ে যায়। আমিও আর কিছু বললাম না
চুপ করে আছি। তবে এখন দুজনি চুপ করে
আছি। এরকম না যে ওর সাথে আমি এর আগে
কখনো রিকশায় চড়িনি। হ্যা একসাথে
রিকশায় ছড়েছি তবে আজকের মত এরকম
কখনো মনে হয়নি। আজকে তামান্নার
পাশে বসতে আমার কেমন যেন লাগছে। খুব
Uneasy uneasy লাগছে তাই কোনো রকমে
বসে আছি বলা যায়। ও আমার এরকম করা
দেখে বলে উঠলো।
.
"কি ব্যাপার তুমি এরকম ভাবে বসে আছো
কেন? স্বাভাবিক হয়ে বস।
"না ঠিক আছে আমি তো ঠিক আছি।
"কিছুই ঠিক নাই তুমি এরকম একটা ভাব
করছো যেন এর আগে কখনো তুমি আমার
সাথে রিকশায় চড়নি।
"আরে বললাম তো ঠিক আছি। আচ্ছা এই সময়
হঠাৎ নতুন ব্রিজে যাওয়ার কারণটা কি?
"কারণ কিছুনা। তোমার তো সময় নেই
আমাকে নিয়ে একটু সময়ের জন্য বের হওয়ার
তাই নিজ থেকেই তোমাকে নিয়ে বের
হলাম।
"ওহ আচ্ছা।
.
তারপর রিকশা চলতে চলতে ব্রিজের
মাঝখানে এসে থামলো। রিকশা থেকে
নেমে ভাড়া মিটিয়ে তামান্নার পাশে
একসাথে হাটছি। তবে ওর হাতটা ধরতে
পারছিনা কেন যেন খুব ইচ্ছে করছে ওর
হাতে হাত রেখে এই পথটা হাটতে। কিন্তু
সাহস করে উঠতে পারছিনা। আর এদিকে
দুজনি চুপ করে আছি। নীরবতা ভেঙে আমি
নিজেই বলে উঠলাম।
.
"কি হল কথা বলছো না কেন?
"কি বলবো?
"যা ইচ্ছে হয় তাই বলবা।
"তোমাকে আর বলে কি হবে তুমি আমার
কথাগুলু বুঝবে না।
"আরে বুঝবোনা কেন?
"হ্যা যদি বুঝতে তাহলে অনেক আগেই বুঝে
যেতে।
"আচ্ছা বাদ দাও। আচ্ছা তোমার বয়ফ্রেন্ড
নেই কেন?
"তোমার গার্লফ্রেন্ড নেই কেন?
"প্রশ্নটা আমি আগে করেছি। সো তুমি
আগে উত্তর দিবে।
"কারণ একটা বোকা হাদারাম কে আমি
ভালবাসি যার কারণে অন্য কেউ এসে
আমার সাথে ভাব নিতে পারেনা।
"কে সেই বোকা।
"আছে একজন যাকে অনেকবার বুঝাতে যেও
বুঝাতে পারিনি যে আমি থাকে কতটা
ভালবাসি।
"তাহলে বলে দাও না কেন বোকাটাকে
যেহেতু ছেলেটা বোকা।
"আমি বলবো কেন ও বুঝে নিতে পারেনা।
"আচ্ছা ও যদি বুজেও না বুঝার ভান করে
তখন তুমি কি করবে।
"খুন করে ফেলবো।
"আরে এখানে খুন করার কি হল। বোকাটা
যখন বুঝে না তাহলে থাকে বুঝাবা।
"হুম বুঝাতে বুঝাতে একদিন নিজেই হারিয়ে
যাবো তখন আর বুঝানোর মানুষ থাকবেনা।
(কথাটা তামান্না একটু অভিমান মিশ্রিত
কন্ঠে বলল)
"আরে তুমি হারিয়ে যাবা কেন?
"আচ্ছা বললে না তো তোমার গার্লফ্রেন্ড
নেই কেন?
"সেইম কাহিনী বলে লাভ নেই।
"তার মানে তুমিও আমার মত একজন কে
ভালবাসো? কে সেই মেয়েটা বলনা প্লিজ?
"আছে একজন যাকে সব সময়ই পাশে পাই।
যে সব সময় আমার খেয়াল রাখে, সব সময়
আমাকে চোখে চোখে রাখে। যার সাথে
কথা বলতে আমার খুব ভাল লাগে। যার
সাথে সময় কাটাতে আমার ভাললাগে।
যাকে নিয়ে আমার স্বপ্ন দেখতে ভাল
লাগে।
"তা কে সেই রাজকুমারী?
.
(কথাটা বলে তামান্না দাঁড়িয়ে গেল।
আমি কিছু পা সামনে গিয়ে পিছন ফিরে
তামান্নাকে দেখলাম সে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি পিছন ফিরে তামান্নার সামনে এসে
বললাম)
.
"আচ্ছা তামান্না তুমি কি আমাকে
ভালবাসো?
(কথাটা শুনে তামান্না অবাক চোখে
আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ও ঠিক
বিশ্বাস করতে পারছেনা যে আমি ওকে
কথাটা বলেছি। ওর চুপ করে থাকা দেখে
আমি আবার বলে উঠলাম)
"কি হল বলছো না কেন? তুমি কি আমাকে
ভালবাসো? যানো আমি কিন্তু তোমাকে
ভালবাসি।
(তামান্না দেখি এখনো চুপ করে দাঁড়িয়ে
আছে। তবে চোখটা কেমন চিখ চিখ করছে
এর কারণ কি বুঝলাম না। আমি যখন আর কিছু
বলতে যাবো ঠিক তখনি দেখলাম তামান্না
দৌড়ে এসে আমার বুকে মাথা লুকালো। আর
ওর মায়াবী চোখের নোনা পানি দিয়ে
আমার শার্টটা ভিজিয়ে দিল। তখন আমি
বলে উঠলাম)
.
"আরে কাঁদছো কেন? আমি তো তোমাকে
প্রপোজ করছি। এখানে কান্নার কি হল
আমি বুজতাছি না।
"ঐ শয়তান চুপ করে থাকো একটা কথাও বলবা
না।
"আচ্ছা ঠিক আছে চুপ করলাম। কিন্তু তুমি
তো কিছু বলছো আমি এখন কি ধরে নিব?
"যা মন চায় ধরে নাও।
"আচ্ছা ধরলাম তোমাকে।
"আচ্ছা তুমি কি আমার সাথে প্রেম করবা?
(কথাটা শুনে আমি একটু অবাক হলাম।
তামান্না এরকম কথা বলার কারণ কি। তাই
আমিও বলে উঠলাম)
"না আমি তোমার সাথে প্রেম করবো না।
তোমাকে আমি ভালবাসবো আর আমার
ভালবাসা প্রেম না।
"সত্যি তো?
"হুম সত্যি। কিন্তু আমি যে তোমাকে
প্রপোজ করলাম তুমি কোনো উত্তর দিলে
না?
"এই শয়তান এক কথা কতবার বলবো?
"আরে তুমি কোন কথাটা আবার কতবার
বললা?
"এবার মাইর খাবা কিন্তু?
"ঠিক আছে তুমি তো আর মুখে কিছু বলবে
না। আর আমিতো তোমাকে প্রপোজ করছি
কিন্তু তুমি কিছুই বললেনা। এখন যদি তুমি
আমাকে মারো তাহলে বুঝবো আমাকে তুমি
ভালবাসো না আর যদি ভালবাসো তাহলে
চুপ করে আমার হাতটা ধরে থাকবা।
.
(কথাটা বলার পর তামান্না আমার
শার্টটাকে ভিজিয়ে মুখ উপরে তুলে আমার
দিকে তাকালো আর তারপর ওর দুহাত
আমার ডান হাতটা ধরে রাখলো। আমি বুজে
গেলাম যে পাগলীটাও আমাকে ভালবাসে।
তাই বললাম)
.
"তা ভালবাসো যখন শুধু শুধু আমার এই
শার্টটা ভিজানোর কি দরকার ছিল।
(তামান্না আমার কথা শুনে রেগে বলে
উঠলো)
"ঐ তোমার কোনো সমস্যা? তোমার ঐ
জায়গায়টার শুধু আমিই মালিক। আমি
ওখানে মাথা লুকাবো আর আমি তোমার
শার্ট ভিজাবো আর কেউ না।
"ঠিক আছে মহারাণী আপনি যা বলেন।
"...
"তাহলে চল হাটি........
.
তারপর দুজন মিলে আমাদের ভালবাসার
পথটা চলতে শুরু করলাম। চলছি দুজনে এক
অজানা গন্তব্যে।
.
লিখা--Ariyan Mahbub Riyad (হিমুর ছোট ভাই)

No comments:

Post a Comment