Monday, May 23, 2016

শিরোনামঃফেলে আসা সেই দিন গুলো
'
.
লেখাঃHafiz Anwar Hossain(আন রোমান্টিক লেখক)
.
মনে পড়ে সেই সব দিন।আজও ভাবি পুরুনো
দিন গুলোতে একবার যদি ফিরে যেতে
পারতাম!!যদি বয়সটা কমে গিয়ে আবার সেই
কলেজের দিন গুলোর মত হৈ চৈ আর মাতা
মাতিতে মেতে উঠতো।
'
আনন্দ আছে,আছে হুল্লোররবাজী,ঘন্টার পর
ঘন্টা ক্যান্টিনে কাটিয়ে দেওয়া,কফি হাউজের
বড় টেবিলটাকে দখল করে দেদারে ঘন্টার
পর ঘন্টা বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা মারা!!
'
এ ছাড়া প্রতি শুক্রবার নতুন কোন ছবি
রিলিজ হলে এডভান্স টিকিট কেটে বন্ধুদের
ফাঁকি দিয়ে প্রিয়ন্তীকে নিয়ে দেখতে যাওয়া frown emoticon
'
একদিন তো হলে মুভি দেখতে গিয়ে আমি
আর প্রিয়ন্তী একদম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে
গেছিলাম।বিরতীর সময় দেখি সামনের সিটে
প্রিয়ন্তীর মামা ও মামী বসে আছে।তারপর
মুভি না দেখেই দুজনে পালিয়ে এসেছিলাম।
'
সেই খবরটা কিভাবে যেন পুরো কলেজে লিক
হয়ে গিয়েছিল,পরে দুজনের যে কি অবস্থা
হয়েছিল সেটা মনে পড়লে এখনো বড্ড হাসি
পায়।
'
আজ সেই কলেজ লাইফ নেই,নেই আনন্দ
উল্লাস আর গান বাজনা।যান্ত্রিক এই শহরে
ব্যাস্ত মানুষ আর কাজের ভীরে যন্ত্র মানব
হয়ে গেছি।কলেজ লাইফের প্রিয় মানুষ প্রিয়ন্তী ও নেই আমার জীবনে।
'
প্রিয়ন্তীর বিয়ের সময় নেমন্তন্ন কার্ড
পেয়েছিলাম কিন্তু যাইনি।কিভাবে যেতাম?
যাকে কলেজের প্রথম দিন থেকেই মন উজার
করে ভালবেসে ছিলাম তাকে দেখে হয়তো
নিজেকে ঠিক রাখতে পারতামনা।
'
শুনেছি প্রিয়ন্তী তার স্বামীর সাথে আমেরিকায়
অনেক সুখে আছে।২টা ছেলে আর একটা
মেয়ে হয়েছে।সবারই বিয়ে হয়ে গেছে।সব্বাই
আমেরিকার নাগরীক।
'
প্রিয়ন্তী খুব গর্ব করে বলতো আমার দেশ
সোনার দেশ।এই সোনার দেশটাকে ছেড়ে
আমি কখনো কোথাও থাকতে পারবোনা।
কিন্তু সেই যে বিয়ের পর গেল!!আজ ৩৭
বছর হয়ে গেল আর ফেরার নাম নেই।এই কি
ছিল তাহলে প্রিয়ন্তীর দেশের প্রতি ভালবাসা?
'
আর দেশে থেকেই বা শান্তি কোথায়?সকালে
পত্রিকায় চোঁখ বুলালেই শুধু খুন,ধ্বর্ষন এসব
নিউজ।হাপিয়ে গেছি এই যান্ত্রিক জীবনের
প্রতি।
'
এখন বুড়ো হয়ে গেছি,ছেলে মেয়েরাও কেমন
অদ্ভূত ব্যাবহার করা শুরু করেছে আমার
সাথে।সেদিন রাত্রে হঠাৎ করে পেটের ব্যাথাটা
বেড়ে যায়,অনিচ্ছা সত্বেও বড় ছেলেটা
হাসপাতালে নিয়ে যায়।হাসপাতাল থেকে
ফেরার সময় দেখি একটা কেবিনে কলেজ
লাইফের সবচেয়ে ভাল বন্ধু হিমেল শুয়ে আছে।
'
আমাকে দেখেই সেকি কান্না!!হিমেল আগের
চেয়ে অনেক চিকন আর রোগা হয়ে গেছে।
আজকের হিমেল আর কলেজের সেই হিমেল
কে মিলাতে অনেক কষ্ট হচ্ছিলো।কোথায়
গেল হিমেলের সেই হ্যান্ডসাম উপাধী?যাকে
দেখলেই মেয়েরা তার প্রেমে পড়ে যেত!!
.
আমি আর হিমেল দুজনেই খুব ভাল গান
গাইতে পারতাম।আমি আর হিমেল ক্যান্টিনে
বসে গান গাইতাম।মাঝে মাঝে প্রিন্সিপাল
স্যার উপর থেকে নিচে নেমে আসতেন।
আমাদের দুজনকে বলতেন,তোমাদের গানের
গলা অনেক ভাল আমি জানি,তাই বলে পড়া
শুনাটাও তো ঠিকমত করতে হবে তাইনা?
সেই স্যার কে আমরা সবাই ডাকতাম হুতুম
প্যাচা।সর্টকার্টে প্যাচা স্যার।
'
বছর দশেক আগে একবার সেই কলেজে
গিয়েছিলাম।সেই স্যার আর নেই।সেখানে
আরেকজন এসেছে।নেই কলেজের আগের
মত সেই অবস্থা।বিশেষ করে ক্যান্টিনের
অবস্থাটা।ক্যান্টিনের ভিতরের কাঠের টেবিল
গুলো আর নেই।ওখানে সব বাধাঁনো সিমেন্ট
এর টেবিল হয়ে গেছে।
'
কাঠের টেবিল গুলোতে হাত চাপড়িয়ে গান
গাইতাম।এখন সবকিছু শুধুই ইতিহাস।
হিমেলকে দেখে মনের অজান্তেই চোঁখ দিয়ে
পানি গড়িয়ে পড়লো।দুজনকে দুজনকে
জড়িয়ে ধরে অনেক্ষন কাঁদলাম।হিমেলের
অবস্থা আমার চাইতেও বেশি খারাপ।
'
আসার সময় ড্রাইবারকে বললাম মান্নাদের
সেই বিখ্যাত কফি হাউজের গানটা ছাড়তে।
গাড়ি দ্রুত গতিতে হাওয়ার বেগে চলছে আর
আমার কানে মৃদু স্বরে ভেসে আসছে____
'
.
কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেল গুলো
সেই আজ আর নেই...........................।।

No comments:

Post a Comment