____এটাই ভালবাসা____
লিখা:- Roman Ahmmed (হাতুম)
,,
ভালবাসা যে শুধু প্রেমিক প্রেমিকা কে বুঝায় তা কিন্তু নয়।ভালবাসার মানুষ হতে পারে মা, বাবা, ভাই, বোন, দাদা, দাদি, সবার সাথে।তবে এই দুজনের ভালবাসাটা অন্য রকম। তারা ২ বোন, তাদেরকে আবার অনেকে ডাকে জোড়ার কবুতরি,জোড়ার কবুতরি ডাকার কারন হচ্ছে, তারা ২জনেই জমজ বোনের মত।তাদের পিছন থেকে দেখলে বুঝা যায়না কে বড় কে ছোট।দুজনে এক সাথে কলেজ যায় আসে ,তারা একে অন্যকে এতটা ভালবাসে বলার মত না। কোন দিন একটি রাত ও কোথাও থাকেনি একে অন্যকে ছেড়ে।
,,
কলেজ যাওয়ার সময় বড় বোন দু জোড়ার দুটি জুতা নিয়ে যেতো, আর ছোট বোনটি দেখে ও না দেখার বান করত,যখন বুঝতে পারতো এক দোড়ে বাষায় গিয়ে আবার ঠিক করে আসত,সারা পথ দুজনে দুস্টামি করে যেতেযেতে প্রতিদিন কলেজ দেরি করত, আর দুজনেই কান দরে দাড়িয়ে থাকতে হত। তারা সারাদিন জগড়া করত, দিনের বেলায় একজন ঘুমলে অন্যজন মুখে কখন কাজল আবার কখনো লিপস্টিক মেখে দিতো।
,,
দুজনে এক সাথে লুড়ু খেলতো, যে হেরে যেতো সে অভিমান করে বসে থাকতো, আর অপরজন সারা দিন গল্প শুনিয়ে অভিমান বাঙ্গাতো।তারা সব কিছু ভাগা ভাগি করে নিতো।যেমন এক বালিশে ২ মাথা রেখে ঘুমাতো,এক জোড়া নুপুর দুজনে দু পাঁয়ে পড়তো, সবাই বলতো এই জোড়া কবুতরিদের কোন এক পরিবারের জোড়া কবুতরের সাথে বিয়ে দিবে।এই কথা শুনে ছোট বোনটি কান্না করতে করতে ২ বক্স টিসু শেষ করে পেললো।রাতে দুজনে একসাথে ঘুমতে যায়, আর বড় বোনটি ছোট পাগলিটাকে বুকে জড়িয়ে বলে,,
,,
-কাদছিস কেন পাগলি, আমি তোকে ছেড়ে কোথাও যাবনা।
-সত্যি করে বল আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবিনা তো..?
-সত্যি যাবনা।
,,
কিছুদিন পর বড় বোনের বিয়ের জন্য একজন পাত্র আসে দেখতে।ছেলেটি দেখতে খুব সুন্দর ও হেন্ডসাম, তবে ছেলেটির একটি সমস্যা ছিল।ছেলেটি "ক" কে "প" বলতো।মেয়ের আব্বু ছেলেকে জিঙ্গেস করল..
,,
-তোমার নাম কি..?
-আমার নাম পাদের মানে ( কাদের)
এইকথা শুনেতো দু বোনই কান্না করতেছে।তাদের কান্না দেখে ছেলে বললো।
-তুমি পাদছো কেন? পেদোনাপেদোনা তুমি পাদলে আমিও পেদেদিবো..এর পর বিয়েটা বেঙ্গে যায়, এর কিছুদিন পর বড় বোনকে দেখতে অন্য একজন বর পক্ষে আসে এবং বিয়ে ও ঠিক হয়ে যায়।
,,
যত বার বড় বোনকে দেখতে আসতো ছোট বোন কান্না করতো।কিন্তু এই বার ছোট বোনটি খুব খুসি।এখন আর তার কান্না আসেনা।আজ তার বিয়ে, বড় বোনকে বৌ সাজানোর মত কেউ নেই,তাই সে নিজ হাতেই তাকে বৌ সাজাচ্ছে, বৌ সাজানো শেষ, লাল রঙের লাড়ি হাতে কাঁচের চুড়ি , চোখের চার পাসে কাজল, খুব সুন্দর লাগছিল,হঠাৎ বাম চোখের এক কোনে এক পোটা অশ্রু এসে কাজল গুলো একদম মুছে দিলো,এই মায়া বরা চোখে অশ্রু একদম বেমানান।
ছোট বোনটি নিজ হাতে তার অশ্রু মুছে আবার কাজল লাগাতে লাগাতে বলল।এই পাগলি কাদছিস কেন..? আজ তো খুসির দিন, দেখ পৃথিবীর নিয়মটা এমন ই, একদিন সাবাই যেতে হবে,আরে তুই তো একেবারে চলে যাচ্ছিস না, তুইতো কিছু দিনের জন্য বেড়াতে যাচ্ছিস।বড় বোন শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো,আর মনে মনে বলতে লাগলো, এতদিন আমি তোকে সান্তনা দিতাম, আর আজ তুই আমাকে সান্তনা দিচ্ছিস।বিয়ের কাজ শেষ, গাড়ি ও এসে গেছে।
এখন বড় বোনকে গাড়িতে উঠানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।একেঅন্যে দিকে চেয়ে আছে, মুখে কারো কোন কথা নেই।অসহায় চোখ বুঝিয়ে দিচ্ছে, অনেক কথা বলার ছিল।বুঝিয়ে দিচ্ছে একে অন্যকে কতটুকু চায়।বিতরটা জ্বলে পুডে শেষ তবুও মুখে কোন কথা নেই।
,,
ছোট বোনটি এক দোড়ে গিয়ে চোখের অশ্রু মুছে দিতে দিতে বলতে লাগলো।কিরে এত বড় মেয়ে পিচ্ছির মত কান্না করিস কেন আমি কালকে জাবো তোকে নিয়ে আসবো।দুজন দুজনকে জড়িয়ে দরে কান্নায় বেঙ্গে পড়ল।বড় বোন বেহুশ হয়ে যায়, তাকে গাড়িতে উঠিয়ে গাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়, গাড়ি আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে সামনের দিকে।গাড়ি যত এগুচ্ছে ততই ছোট পাগলির বুকটা কাঁপতেছে।ছোট পাগলিটা চিত্কার করে বলতে লাগলো কেন চলে যাচ্ছিস একা করে? এটাতোকথা ছিলনা,যা চলে যা তোর সাথেআড়ি আর কথাই বলবনা।বিয়ে বাড়িটা একদম নিস্তব্ধ,মেয়েটা
র মন
খুব খারাপ, শুধু কান্না করে।রুমের এক কোনে মন খারাপ করে বসে আছে ছোট
পাগলিটা।আজ তাকে কেউ মিথ্যা সান্তনা ও দিচ্ছেনা।তার চোখের পানি মুছে দেয়ার
মত আজ আর কেউ নেই।অন্যদিকে নতুন বৌকে সবাই দেখতে এসেছে।কিন্তু নতুন বৌ এর
মন রয়ে গেছে ছোট বোনের কাছে।ছোট বোনটি সারা দিন কিছু খায়নি, রাতে তার মা
খাবার নিয়ে আসে অনেক বলে খাওয়ার জন্য, কিন্তু সে কিছুতে খাবেনা।একটু পরই
তার ফোনটি বেজে উঠলো, বড় বোন যখন খাবার খেতে বলল তখনই খেলো।রাতে ঘুমোতে
গেলো কিন্তু ঘুমযে আসেনা, কি করে আসবে আজতো আর কেউ তার সাথে গল্প
করছেনা।কেউতো তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেনা।কিছুক্ ষন শুয়ে থাকার পর উঠে বসলো।
,,
জন্মদিনে উপহার দেয়া ড়াইরি টি দেখতে লাগলো।ড়ায়রির প্রতিটা পাতায় মিসে আছে তাদের স্মৃতি।পুরোন স্মৃতিকথা ভাবতে ভাবতে ফোনটা আবার বেজে উঠল।বড় বোন ঘুম পাড়িয়ে দেয়,পাগলিটা কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে।এই ভাবেই পৃথক হতে থাকে দুজন।পৃথিবীর নিয়মটাই এমন সবাই একদিন চলে যেতে হবে। P: MH...
লিখা:- Roman Ahmmed (হাতুম)
,,
ভালবাসা যে শুধু প্রেমিক প্রেমিকা কে বুঝায় তা কিন্তু নয়।ভালবাসার মানুষ হতে পারে মা, বাবা, ভাই, বোন, দাদা, দাদি, সবার সাথে।তবে এই দুজনের ভালবাসাটা অন্য রকম। তারা ২ বোন, তাদেরকে আবার অনেকে ডাকে জোড়ার কবুতরি,জোড়ার কবুতরি ডাকার কারন হচ্ছে, তারা ২জনেই জমজ বোনের মত।তাদের পিছন থেকে দেখলে বুঝা যায়না কে বড় কে ছোট।দুজনে এক সাথে কলেজ যায় আসে ,তারা একে অন্যকে এতটা ভালবাসে বলার মত না। কোন দিন একটি রাত ও কোথাও থাকেনি একে অন্যকে ছেড়ে।
,,
কলেজ যাওয়ার সময় বড় বোন দু জোড়ার দুটি জুতা নিয়ে যেতো, আর ছোট বোনটি দেখে ও না দেখার বান করত,যখন বুঝতে পারতো এক দোড়ে বাষায় গিয়ে আবার ঠিক করে আসত,সারা পথ দুজনে দুস্টামি করে যেতেযেতে প্রতিদিন কলেজ দেরি করত, আর দুজনেই কান দরে দাড়িয়ে থাকতে হত। তারা সারাদিন জগড়া করত, দিনের বেলায় একজন ঘুমলে অন্যজন মুখে কখন কাজল আবার কখনো লিপস্টিক মেখে দিতো।
,,
দুজনে এক সাথে লুড়ু খেলতো, যে হেরে যেতো সে অভিমান করে বসে থাকতো, আর অপরজন সারা দিন গল্প শুনিয়ে অভিমান বাঙ্গাতো।তারা সব কিছু ভাগা ভাগি করে নিতো।যেমন এক বালিশে ২ মাথা রেখে ঘুমাতো,এক জোড়া নুপুর দুজনে দু পাঁয়ে পড়তো, সবাই বলতো এই জোড়া কবুতরিদের কোন এক পরিবারের জোড়া কবুতরের সাথে বিয়ে দিবে।এই কথা শুনে ছোট বোনটি কান্না করতে করতে ২ বক্স টিসু শেষ করে পেললো।রাতে দুজনে একসাথে ঘুমতে যায়, আর বড় বোনটি ছোট পাগলিটাকে বুকে জড়িয়ে বলে,,
,,
-কাদছিস কেন পাগলি, আমি তোকে ছেড়ে কোথাও যাবনা।
-সত্যি করে বল আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবিনা তো..?
-সত্যি যাবনা।
,,
কিছুদিন পর বড় বোনের বিয়ের জন্য একজন পাত্র আসে দেখতে।ছেলেটি দেখতে খুব সুন্দর ও হেন্ডসাম, তবে ছেলেটির একটি সমস্যা ছিল।ছেলেটি "ক" কে "প" বলতো।মেয়ের আব্বু ছেলেকে জিঙ্গেস করল..
,,
-তোমার নাম কি..?
-আমার নাম পাদের মানে ( কাদের)
এইকথা শুনেতো দু বোনই কান্না করতেছে।তাদের কান্না দেখে ছেলে বললো।
-তুমি পাদছো কেন? পেদোনাপেদোনা তুমি পাদলে আমিও পেদেদিবো..এর পর বিয়েটা বেঙ্গে যায়, এর কিছুদিন পর বড় বোনকে দেখতে অন্য একজন বর পক্ষে আসে এবং বিয়ে ও ঠিক হয়ে যায়।
,,
যত বার বড় বোনকে দেখতে আসতো ছোট বোন কান্না করতো।কিন্তু এই বার ছোট বোনটি খুব খুসি।এখন আর তার কান্না আসেনা।আজ তার বিয়ে, বড় বোনকে বৌ সাজানোর মত কেউ নেই,তাই সে নিজ হাতেই তাকে বৌ সাজাচ্ছে, বৌ সাজানো শেষ, লাল রঙের লাড়ি হাতে কাঁচের চুড়ি , চোখের চার পাসে কাজল, খুব সুন্দর লাগছিল,হঠাৎ বাম চোখের এক কোনে এক পোটা অশ্রু এসে কাজল গুলো একদম মুছে দিলো,এই মায়া বরা চোখে অশ্রু একদম বেমানান।
ছোট বোনটি নিজ হাতে তার অশ্রু মুছে আবার কাজল লাগাতে লাগাতে বলল।এই পাগলি কাদছিস কেন..? আজ তো খুসির দিন, দেখ পৃথিবীর নিয়মটা এমন ই, একদিন সাবাই যেতে হবে,আরে তুই তো একেবারে চলে যাচ্ছিস না, তুইতো কিছু দিনের জন্য বেড়াতে যাচ্ছিস।বড় বোন শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো,আর মনে মনে বলতে লাগলো, এতদিন আমি তোকে সান্তনা দিতাম, আর আজ তুই আমাকে সান্তনা দিচ্ছিস।বিয়ের কাজ শেষ, গাড়ি ও এসে গেছে।
এখন বড় বোনকে গাড়িতে উঠানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।একেঅন্যে দিকে চেয়ে আছে, মুখে কারো কোন কথা নেই।অসহায় চোখ বুঝিয়ে দিচ্ছে, অনেক কথা বলার ছিল।বুঝিয়ে দিচ্ছে একে অন্যকে কতটুকু চায়।বিতরটা জ্বলে পুডে শেষ তবুও মুখে কোন কথা নেই।
,,
ছোট বোনটি এক দোড়ে গিয়ে চোখের অশ্রু মুছে দিতে দিতে বলতে লাগলো।কিরে এত বড় মেয়ে পিচ্ছির মত কান্না করিস কেন আমি কালকে জাবো তোকে নিয়ে আসবো।দুজন দুজনকে জড়িয়ে দরে কান্নায় বেঙ্গে পড়ল।বড় বোন বেহুশ হয়ে যায়, তাকে গাড়িতে উঠিয়ে গাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়, গাড়ি আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে সামনের দিকে।গাড়ি যত এগুচ্ছে ততই ছোট পাগলির বুকটা কাঁপতেছে।ছোট পাগলিটা চিত্কার করে বলতে লাগলো কেন চলে যাচ্ছিস একা করে? এটাতোকথা ছিলনা,যা চলে যা তোর সাথেআড়ি আর কথাই বলবনা।বিয়ে বাড়িটা একদম নিস্তব্ধ,মেয়েটা
,,
জন্মদিনে উপহার দেয়া ড়াইরি টি দেখতে লাগলো।ড়ায়রির প্রতিটা পাতায় মিসে আছে তাদের স্মৃতি।পুরোন স্মৃতিকথা ভাবতে ভাবতে ফোনটা আবার বেজে উঠল।বড় বোন ঘুম পাড়িয়ে দেয়,পাগলিটা কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে।এই ভাবেই পৃথক হতে থাকে দুজন।পৃথিবীর নিয়মটাই এমন সবাই একদিন চলে যেতে হবে। P: MH...
No comments:
Post a Comment